Published : 11 Mar 2026, 11:55 AM
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন-পাতা নৌযান ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিয়েছে বলে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
ওই প্রণালিতে কোনো মাইন পাতা হলে, ইরানকে তা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুঁশিয়ারির মধ্যেই মঙ্গলবার তাদের এ বিবৃতি আসে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র ১০টি নিষ্ক্রিয় মাইন-পাতা নৌযান ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দিয়েছে বলে ট্রাম্প আগে জানিয়েছিলেন।
বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজে ইরান মাইন পাতা শুরু করেছে বলে বেশকিছু গণমাধ্যমে খবর বের হওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুথ সোশালে বলেন, “ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতেছে বলে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই, তবে যদি তারা এমনটা করে থাকে, তাহলে আমরা চাই, তারা অবিলম্বে সেগুলো সরিয়ে নিক।”
তেহরান তা না করলে তাদের সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি। তবে ওই পরিণতি কী হতে পারে সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত বলেননি।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতার চেষ্টা করা যে কোনো নৌকা বা জাহাজকে ‘স্থায়ীভাবে নিশ্চিহ্নে’ যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে যেটা তারা মাদক পাচারকারীদের ক্ষেত্রে করে আসছে।
মাদক পরিবহন করছে এমন অভিযোগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যারিবিয়ান ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে একের পর এক নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র; তাদের সেসব হামলায় কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুও হয়েছে।
ট্রাম্পের পোস্টের আগে মঙ্গলবার পেন্টাগন বলেছিল, তারা ইরানের মাইন-পাতা নৌযান ও মাইন সংরক্ষণাগারে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে ইরান উপকূল সংশ্লিষ্ট ওই জলপথ দিয়েই বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক পঞ্চমাংশ যেত।
এর আগে মঙ্গলবারই মার্কিন শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইন পেন্টাগনে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্দেশ পেলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পারাপারে পাহারা দেওয়ার সম্ভাব্য পথগুলো খোঁজা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
“আমরা সম্ভাব্য সব বিকল্প খতিয়ে দেখছি,” বলেছেন তিনি।
প্রায় প্রতিদিনই মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি পার করে দিতে জাহাজগুলোর কাছ থেকে অনুরোধ পাচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সেসব অনুরোধে সাড়া দেয়নি, বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত একাধিক সূত্র রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট মঙ্গলবার মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হঠাৎ দাবি করে বসেন, মার্কিন নৌবাহিনী সফলতার সঙ্গে একটি তেলের ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি পার করে দিয়েছে।
তবে কিছুক্ষণ পরেই তিনি ওই পোস্টটি ডিলিট করে দেন।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো তেলের ট্যাংকার বা নৌযানকে হরমুজ প্রণালি পার করে দেয়নি।
“জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মী ভুলভাল ক্যাপশন দিয়েছেন, এটা নিশ্চিত হওয়ার পর মন্ত্রীর সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে,” বলেছেন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
রাইটসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের ট্যাংকার পার করে দেওয়ার উপায় মার্কিন বাহিনীর হাতে নেই।
“আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মার্কিন বহর ও তার মিত্রদের (হরমুজ দিয়ে) চলাফেরা থামিয়ে দেবে,” ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে এমনটাই বলেছেন আইআরজিসি’র মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি।