১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নাইজেরিয়ার গ্রামে প্রাণঘাতী হামলায় ১৭০ জন নিহতের পর সেনা মোতায়েন

নাইজার সীমান্তের কাছে কোয়ারা রাজ্যের প্রত্যন্ত ওরু গ্রামে মঙ্গলবারের এই হামলা চলতি বছরে ওই অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

নাইজেরিয়ার গ্রামে প্রাণঘাতী হামলায় ১৭০ জন নিহতের পর সেনা মোতায়েন
নাইজেরিয়ায় হামলার পর নিহতদের জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Feb 2026, 07:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা রাজ্যের কায়ামা জেলার একটি গ্রামে সন্দেহভাজন জিহাদি যোদ্ধাদের হামলায় ১৭০ জন নিহত হওয়ার পর সেখানে সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করেছেন প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু।

বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়। নাইজার সীমান্তের কাছে কোয়ারা রাজ্যের প্রত্যন্ত ওরু গ্রামে মঙ্গলবার চালানো এই হামলা চলতি বছরে ওই অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। 

জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডাব্লিউপি) এবং অন্যান্য সশস্ত্র দলগুলো সম্প্রতি নাইজেরিয়ার এই অংশে বিভিন্ন গ্রামে তাদের তৎপরতা ও অপহরণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, উত্তরের জিহাদি গোষ্ঠীগুলো এখন দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য নাইজার-কোয়ারা অক্ষ বরাবর অবস্থিত কাইনজি বনাঞ্চল। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্গম বন জিহাদিদের পরবর্তী শক্তিশালী আস্তানায় পরিণত হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু বলেন, নতুন মোতায়েন সেনা ইউনিট বাড়তি হামলা ঠেকাবে এবং প্রত্যন্ত সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিবে। তিনি জিহাদি হামলাকে “কাপুরুষোচিত ও বর্বর” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনুবু বলেন, জঙ্গিরা সেই সব গ্রামবাসীর ওপর চড়াও হয়েছে যারা উগ্রবাদী শাসন মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল। 

তিনি আরও বলেন, “এটি প্রশংসনীয় যে, সম্প্রদায়ের সদস্যরা মুসলিম হওয়ার পরও এমন কোনো বিশ্বাস ধারণ করতেতে রাজি হননি যা শান্তির চেয়ে সহিংসতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা দীর্ঘ দিন ধরে ওই গ্রামে ধর্ম প্রচার করে আসছিল এবং গ্রামবাসীদের নাইজেরীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা ত্যাগ করে শরিয়া আইন গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। 

গ্রামবাসীরা তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে জঙ্গিরা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইদু বাবা আহমেদ জানান, হামলায় অন্তত ৩৮টি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। 

গত ২৫ ডিসেম্বর মার্কিন বাহিনী নাইজেরিয়ার জঙ্গি আস্তানাগুলোতে হামলা চালায়। তবে আবুজা (নাইজেরিয়ার রাজধানী) দাবি করেছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কাজ করছে এবং খ্রিস্টানদের ওপর কোনও ধারাবাহিক নিপীড়নের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

একই দিনে নাইজেরিয়ার উত্তরের কাতসিনা রাজ্যেও পৃথক এক হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। সেখানে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা ঘরে ঘরে ঢুকে বাসিন্দাদের ওপর গুলি চালায় বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।