Published : 03 Sep 2025, 06:08 PM
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদের ‘ওভাইরসাইট’ কমিটি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন ফাইলের ৩৩ হাজার ২৯৫ পাতার নথি প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এইসব নথির সঙ্গে কয়েকটি ভিডিও এবং এপস্টিনের মৃত্যুর রাতের ফুটেজও প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশিত নথিগুলোর বেশির ভাগই আদালতের নথি, অডিও রেকর্ডিং এবং আগে প্রকাশিত তথ্য।
ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বার বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে এপস্টিন ফাইল প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে আসার পর এ সমস্ত নথি প্রকাশ হল।
প্রতিনিধি পরিষদে ম্যাসাচুসেটস এর ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জিম ম্যাকগভার্ন এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, “রিপাবলিকানরা মাত্রই যা প্রকাশ করেছে...তা আগেই প্রকাশ পেয়েছিল।”
অন্যান্য ডেমোক্র্যাটরাও বলছেন,প্রকাশিত নথিতে নতুন তথ্য বিশেষ নেই। ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট রো খান্না গত মাসেই বলেছিলেন কমিটিকে দেওয়া নথির মাত্র ৩ শতাংশ নতুন তথ্য। বাকি সব আগেই প্রকাশ পেয়েছে।
এবার হাজারো পাতার নথি প্রকাশের পর সেই একই কথাই বলেছেন কংগ্রেস সদস্য সুমার লি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সামনে আসা নথিগুলোই আবার নতুন করে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন বলতে নথিতে আছে কেবল এপস্টিনের যাবতীয় ভ্রমণ সম্পর্কিত তথ্য।
মার্কিন বিচারবিভাগ এপস্টিন সম্পর্কিত অন্যান্য নথি গোপন রেখেছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। নথির সঙ্গে যেসব ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো ২০০৬ সালের। এসব ভিডিওতে এপস্টিনের অপরাধের শিকার যারা হয়েছিলেন তাদের সাক্ষাৎকার আছে।
এপস্টিন সম্পর্কিত নথিগুলো অনলাইনে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার।
তিনি বলেন, তিনি যত দূর জানেন, নথিগুলোতে নতুন কিছু নেই। তবে স্বচ্ছতার জন্য সেগুলো প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সবাই নথিগুলো দেখতে পারে।
এপস্টিন ২০১৯ সালে জেলে থাকার সময় আত্মহত্যা করেছিলেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে এপস্টিনের আত্মহত্যার সেই রাতে নিউ ইয়র্কের জেলে তার সেলের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে।
২০১৯ সালের ৯ অগাস্ট সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত মোট ১৩ ঘণ্টা ৪১ সেকেন্ডের ভিডিও অলাইনে প্রকাশ করা করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যেই এপস্টিন মারা গিয়েছিলেন।
দীর্ঘ দিন ধরে চলা এপস্টিন মামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত।
এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা এবং এপস্টিন ফাইলে অনেকের সঙ্গে তার নাম থাকা নিয়ে গণমাধ্যমে বের হওয়া খবর বেশকিছুদিন ধরে তারই প্রশাসনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করার হুমকি সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের কিছু সমর্থক অনেক দিন ধরেই এপস্টিনের ক্লায়েন্টদের নিয়ে এবং ২০১৯ সালে জেলে এপস্টিনের মৃত্যুর পরিবেশ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উস্কে দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রভাবশালীদের রক্ষায় এপস্টিন-সম্পর্কিত কেলেঙ্কারির তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ আছে, যা তার রাজনৈতিক ভিত্তির মধ্যেই বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা)’ আন্দোলনের অনেক সমর্থক এখনও বিশ্বাস করে এপস্টিন-সম্পর্কিত তথ্য গোপন করে রাখা হয়েছে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য।
তাছাড়া গত জুলাই মাসে রয়টার্স/ইপসোস জরিপের ফলেও দেখা গেছে যে, বেশিরভাগ আমেরিকান এবং ট্রাম্পের রিপাবলিকান সমর্থকরা বিশ্বাস করে যে, সরকার এই মামলার বিস্তারিত তথ্য গোপন করছে।
এপস্টিন ফাইলস যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত কেলেঙ্কারির এক গোপন নথি। ট্রাম্পের রিপাবলিকান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব নথি প্রকাশের দাবি উঠেছিল। পরে সেই ফাইলের একটি অংশ প্রকাশ্যে এনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি।
যৌনদাসী কেনাবেচা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ আছে এপস্টিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে- এপস্টিনের পিডো দ্বীপের বিলাসবহুল প্রাসাদে চলত অবৈধ সম্পর্ক। নাবালিকা, এমনকি শিশুদের দিয়েই চালানো হতো যৌন সম্পর্কের কাজ।
এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অতিথিরা সেখানে যেতেন। এপস্টিনর যৌন কেলেঙ্কারিতে ট্রাম্প ছাড়াও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন থেকে মাইকেল জ্যাকসন পর্যন্ত বিশ্বের প্রভাবশালী সব ব্যক্তির নাম আছে বলেও শোনা যায়।