Published : 15 Oct 2022, 01:18 AM
ইরানে মাশা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিক্ষোভে নারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর যৌন লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে। নারীদেরকে জবরদস্তি গ্রেপ্তারের সময় তাদেরকে এমন লাঞ্ছনা করা হচ্ছে বলেই আলামত পাওয়া গেছে সর্বসাম্প্রতিক দুটি ভিডিওতে।
ভিডিওগুলো যাচাই করে দেখেছে বিবিসি। এ দুই ভিডিও নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে।
একটি ভিডিওতে এক নারী বিক্ষোভকারীকে দাঙ্গা পুলিশ পাকড়াও করার সময় প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে যৌন লাঞ্ছনা করার দৃশ্য নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে।
অনেকেই ‘ন্যায়বিচারের’ দাবিতে সরব হয়েছে। আবার অনেকেই পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। এমনকী সরকারের কিছু কট্টর সমর্থকও যৌন লাঞ্ছনার নিন্দা জানিয়েছে।
তাদের ভাষ্য, ইসলামিক অনুশাসন মানে নারীদের পবিত্রতা রক্ষা করা। অথচ ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বাহিনী এখন এই নারীদেরকেই যৌন হেনস্তা করছে।
স্যোশাল মিডিয়ার ওপর ইরানে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইরানিরা এখনও বিক্ষোভের ছবি কোনও না কোনওভাবে তাতে শেয়ার করছে।
কয়েক বছরের মধ্যে ইরানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ দেশটির ধর্মীয় নেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত মাসে ঠিকমত হিজাব না পরায় মাশা আমিনি নামের ২২ বছরের এক তরুণীকে নীতি পুলিশ আটক করার পর তাদের হেফাজতে সেই তরুণীর মৃত্যু হলে ইরানজুড়ে এই তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মাশার দাফনের দিন থেকে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তার আগুন এখন পুরো ইরান জুড়ে জ্বলছে। এবারের বিক্ষোভে নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখ করার মতো।
বিক্ষোভে এরই মধ্যে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। তারপরও চলছে বিক্ষোভ। নিরাপত্তা বাহিনীর ধরপাকড়, গুলি, দমন-পীড়নেও বিক্ষোভ থামছে না।
دیروز بیبیسی فارسی، ویدیوهایی از تعرض نیروهای امنیتی به دختران معترض منتشر کرد که واکنشهای گستردهای با هشتگ #تعرض برانگیخته است؛ از بغض و استیصال و نفرت و خشم تا یادآوری داعش و خرمشهر و «وعده حضور مصممتر در خیابان و انتقام خشونت علیه معترضان.»
— BBC NEWS فارسی (@bbcpersian) October 14, 2022
بیشتر:https://t.co/5XCSTSYJ0X pic.twitter.com/4Pay8TySCu
ইরানের ভেতরে-বাইরে এই বিক্ষোভের অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বসাম্প্রতিক ভিডিওটিতে যে ঘটনা দেখা গেছে, সেটি ঘটেছে বুধবার তেহরানের আর্জেন্টিনা স্কয়ারে।
ভিডিওতে সুরক্ষা পোশাক এবং হেলমেট পরা একদল পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রধান সড়কে একটি নারীকে ঘিরে থাকতে দেখা গেছে। এক পুলিশ ওই নারীর ঘাড় ধরে তাকে টানতে টানতে মোটরসাইকেলে থাকা আরও প্রায় দু’ডজন পুলিশের ভিড়ের মধ্যে তাকে নিয়ে যায়।
নারী ওই বিক্ষোভকারীকে জোর করে একটি মোটরসাইকেলের কাছে নেওয়ার সময় আরেক পুলিশ কর্মকর্তা এগিয়ে এসে তার নিতম্বে হাত দেয়। এরপর তাকে মাটিতে নুইয়ে ফেলা হয় এবং আরও পুলিশ কর্মকর্তা এসে তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে।
ক্যামেরার পেছন থেকে এ সময় এক নারী কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “তারা তার চুল টানছে।” ঘটনার সময় আশেপাশে যেসব যানবাহন ছিল তাদের চালকরা হর্ন বাজিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়। ইরানজুড়ে গত কয়েকদিনে একইধরনের কয়েকটি পরিস্থিতিতে এমন প্রতিবাদ দেখা গেছে।
ভিডিও’র ওই নারী বিক্ষোভকারীকে পরে উঠে দাঁড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। সে সময়ও ক্যামেরার পেছনের সেই নারী কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “তার দিকে (নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা) তাকিয়ে দেখুন, তিনি হাসছেন।”
বিবিসি’র পার্সি ভাষার সার্ভিস থেকে ভিডিওটি যাচাই করে দেখা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পুলিশ পাবলিক রিলেশনস কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।