Published : 02 Mar 2026, 07:23 PM
ইরান উপসাগরীয় প্রায় সব দেশেই আক্রমণ চালালেও ওমান হামলার লক্ষ্য ছিল না বলে আল জজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
ওমানের একটি বন্দরে চালানো হামলা ইরান সরকারের পরিকল্পিত বা কাঙ্ক্ষিত ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
ওমানে হামলার প্রসঙ্গে করা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই আরকাচি বলেছেন, “ওমানে যা হয়েছে সেটি আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা আমাদের সেনাবাহিনীকে বলেছি নিশানা বাছাই করার ক্ষেত্রে সাবধান হতে।”
একইসঙ্গে তিনি জানান, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের প্রভাবশালী এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) এখন সরকারি নির্দেশে কাজ করছে না, বরং কার্যত ‘স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে’ তাদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে আমাদের সামরিক ইউনিটগুলো এখন স্বাধীন এবং অনেকটা বিচ্ছিন্ন। তারা আগে থেকে দেওয়া সাধারণ নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে কাজ করছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, আরাকচির এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ হল, আইআরজিসি এখন সরাসরি ইরান সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, বরং নিহত হওয়ার আগে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যে নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন, তারা কেবল সেটিই অনুসরণ করছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল হিসেবেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি ইরানের প্রচলিত সেনাবাহিনী (আর্টেশ) থেকে আলাদা একটি বিশেষ বাহিনী। এটি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা খামেনির কাছে দায়বদ্ধ ছিল। খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমানে বাহিনীটির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রধান নেই।
বিশ্বজুড়ে সেনাবাহিনী মূলত যুদ্ধের পরিকল্পনা করে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী করণীয় তা ঠিক করে।
কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে বিষযটি সেরকম নয়। কারণ, দেশটিতে আইআরজিসি কেবল একটি বাহিনী নয়, এটি দেশটির বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং বোমাবাহী ড্রোনের মজুদ নিয়ন্ত্রণ করে।
এছাড়া তাদের নিজস্ব নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, বন্দর, টেলিকম নেটওয়ার্ক এবং হাসপাতালও রয়েছে, যা তাদের বিপুল সম্পদের জোগান দেয়। খামেনির উত্তরসূরি যতক্ষণ না কেউ নির্বাচিত হচ্ছেন, ততক্ষণ এই বাহিনীর কোনও প্রধান নেই।
আইআরজিসি তাদের টেলিগ্রাম পেজে দেওয়া এক বার্তায় খামেনি হত্যার চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তারা বলেছে, “ইমামের হত্যাকারীদের কঠোর ও অনুশোচনাযোগ্য শাস্তির হাত থেকে নিস্তার দেওয়া হবে না।”
আইআরজিসি-র অধীনে স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী ছাড়াও রয়েছে দুর্ধর্ষ ‘কুদস ফোর্স’, যা মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহ, হুতি ও সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারকে সহায়তার মাধ্যমে ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ গড়ে তুলেছে।
তাছাড়া তাদের স্বেচ্ছাসেবী শাখা ‘বাসিজ’ ইরানের অভ্যন্তরে যে কোনও বিক্ষোভ দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।