Published : 02 Jul 2026, 03:42 PM
রোগ নির্ণয়ে মেডিকেল এআইয়ের কার্যকারিতা যেমন বাড়ছে তেমন সাইবার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
যেসব রোগীর তথ্য নিয়ে বিভিন্ন এআই মডেল তৈরি হয় হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও গোপন স্বাস্থ্যগত তথ্য অনায়াসে ফাঁস করে দেওয়া সম্ভব বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদেন লিখেছে, চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত এসব এআই সিস্টেমের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার রয়েছে এবং অনেকেই দাবি করছেন, এআই স্বাস্থ্যসেবার মান নাটকীয়ভাবে উন্নত করতে পারে।
যেসব এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভাব রয়েছে, সেখানে এ প্রযুক্তি কার্যকর। যেমন, মানুষ রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে মেডিকেল ইমেজ, যেমন এক্স-রে বা স্ক্যানের মাধ্যমে এআইয়ের ওপর ভরসা করা যেতে পারে।
নতুন গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ প্রযুক্তি যেসব মানুষের তথ্য ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে তাদের অজান্তেই তাদের প্রাইভেসির লঙ্ঘন ঘটতে পারে।
এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য বিভিন্ন নিরাপত্তা দুর্বলতার মধ্যে এ বিষয়টি অন্যতম।
গবেষণায় উঠে এসেছে, হ্যাকাররা মেডিকেল এআই সিস্টেমগুলোর ওপর এমন কিছু সাইবার আক্রমণ চালাতে পারে, যার মাধ্যমে তারা খুব সহজেই জেনে যাবে যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বিশেষ কোনো রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন কি না।
অন্যান্য সাধারণ এআই সিস্টেমের মতো মেডিকেল এআই টুলগুলোও কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের ডেটা নিয়ে কাজ করে, যেমন রোগীর এক্স-রে বা স্ক্যান করা ছবি সরবরাহের মাধ্যমে এবং কম্পিউটারকে শিখিয়ে দেওয়া হয় যে, কোন ছবিগুলো নির্দিষ্ট কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ করছে।
ফলে সিস্টেমটি নিজে থেকেই সেই ধরনের প্যাটার্ন বা লক্ষণ খুঁজতে শিখে যায়, যা পরবর্তীতে সম্ভাব্য বিভিন্ন উপসর্গ শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
যেসব রোগীর তথ্য এ ধরনের গবেষণায় ব্যবহৃত হয় তাদের পরিচয় গোপন রাখাটাই নিয়ম। নতুন গবেষণা বলছে, নির্দিষ্ট মডেলকে ট্রেইন করার পেছনে নির্দিষ্ট কোন রোগীর তথ্য ব্যবহার হয়েছিল তা বের করা সম্ভব।
এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েই কোনো রোগীর সংবেদনশীল চিকিৎসাগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যেতে পারে। যেমন, এ নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন ধরনের সাইবার আক্রমণের বিবরণ দিয়েছেন, যা ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির ক্যান্সার আছে কি না তা সহজে শনাক্ত করা সম্ভব।
গবেষণায় ‘মেম্বারশিপ ইনফারেন্স অ্যাটাক’ নামে নির্দিষ্ট হ্যাকিং পদ্ধতির ওপর নজর দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা হিসাব কষে বের করতে পারে কোনো মডেল তৈরিতে নির্দিষ্ট কোনো রোগীর ডেটা ব্যবহৃত হয়েছিল কি না।
গবেষকরা বলছেন, কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এ ধরনের আক্রমণ ‘প্রায় শতভাগ সফল’ হতে পারে এবং সংখ্যালঘু বা তুলনামূলক কম প্রতিনিধিত্ব থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, সাইবার অপরাধীরা মানুষের ব্যক্তিগত প্রাইভেসি লঙ্ঘন এবং পরবর্তীতে এসব তথ্যকে অন্য কোনো অপরাধমূলক আক্রমণে ব্যবহার করতে এ দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে পারে।
“নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে, মেডিকেল এআই মডেল ও এগুলো যেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ক্ষেত্রকে ভালোভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। যাতে বোঝা যায় হ্যাকাররা ট্রেইনিং ডেটাসেটের সদস্য অনুমান করে ঠিক কতটা সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।”
গবেষণায় উঠে এসেছে, বিভিন্ন মেডিকেল এআই সিস্টেমকে এ ধরনের সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখা কতটা জরুরি।
‘ডিসপ্যারেট প্রাইভেসি রিস্কস ফ্রম মেডিকেল এআই’ শিরোনামে গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ।