Published : 06 Jun 2026, 01:08 AM
ইরান যুদ্ধকে সহজ করতে ইসরায়েল গোপনে আজারবাইজানে বিশেষ সামরিক ও গোয়েন্দা ইউনিট পাঠিয়েছিল বলে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত— এমন চারজন এই তথ্য দিয়েছে বলে দাবি সংবাদমাধ্যমটির।
এই চারজনের মধ্যে দুজন বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ আজারবাইজানে ইরানের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে একটি এলাকার দূরত্ব ছিল ইরানের তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের যেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছিল, সেই তালিকায় তাবরিজও আছে।
অন্য দুজনের ভাষ্য, ওই এলাকায় বিশেষ কমান্ডো ইউনিটও মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ আর ড্রোন হামলার দেখভাল করার দায়িত্ব ছিল তাদের।
এই সামরিক অবস্থানের ফলে উত্তর ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইসরায়েল একটা কৌশলগত সুবিধা পায় বলে এসব ব্যক্তি মনে করেন।
সিএনএন লিখেছে, আজারবাইজানে গোপন মোতায়েন ছিল পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অবস্থানের অংশ।
এর মধ্যদিয়ে এটা স্পষ্ট হলো যে, ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো বিভিন্নভাবে তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে জড়িয়ে পড়েছিল।
ওই চারজনের দেওয়া তথ্যমতে, আজারবাইজানের পাশাপাশি ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সোমালিল্যান্ডেও ইসরায়েলের গোপন সামরিক অবস্থান ছিল।
সিএনএন লিখেছে, শুরুতে এগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযানের সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে চিন্তা করেছিল ইসরায়েল। কিন্তু পরে সেগুলো তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সামরিক কার্যক্রমের ঘাঁটিতে পরিণত করে।
এর ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর সীমান্ত ঘিরে অবস্থান নিতে সক্ষম হয়। তাদের সামরিক কার্যক্রম শত শত মাইল বিস্তৃত হয়। ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সহজে হামলা চালানোর সুবিধাও পায় তারা।
চারজনের মধ্যে একজন বলেন, আজারবাইজান অভিযানে কয়েক ডজন ইসরায়েলি সেনা অংশগ্রহণ করেন। এ তালিকায় ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনীর সদস্য, উদ্ধার ইউনিট এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তারা ছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে আজারবাইজান দূতাবাসের একজন মুখপাত্র সিএনএনের কাছে এসব তথ্য অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
এদিকে ‘হর্ন অব আফ্রিকার’ সোমালিল্যান্ডও ইসরায়েলকে সামরিক অবস্থানের সুযোগ দিয়েছিল বলে একজন দাবি করেছেন।
তার ভাষ্য, এর ফলে ইরানে দীর্ঘ সময়ের ফ্লাইট পরিচালনার সময় ইসরায়েলি বিমানগুলো যাত্রাবিরতির সুযোগ পায়।
গত ডিসেম্বরে প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউ নিউর্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধের এক পর্যায়ে ইরাকেও দুটি গোপন স্থাপনা পরিচালনা করেছিল ইসরায়েল। এগুলো মূলত রসদ সরবরাহ এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
তবে ইরাকের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মার্চ মাসের শুরু পর্যন্ত দেশটিতে কোনো ‘অননুমোদিত ঘাঁটি বা বাহিনী’ ছিল না।
এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী, মোসাদের প্রধান এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন। তবে এই খবর সংযুক্ত আরব আমিরাত অস্বীকার করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা শুরু করে। এতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন।
এদিকে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান।
জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা।
এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা; হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে।
যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই দেশ। সেই দুই সপ্তাহ শেষ হওয়ার ঘণ্টা কয়েক আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। মাঝে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও এখনও দুপক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। তবে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে, এমন খবর সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি একাধিকবার এসেছে।