Published : 02 Feb 2026, 10:29 AM
ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তা আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নেবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি বাড়াতে থাকার মধ্যে তিনি এ মন্তব্য করলেন।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি বলেছেন, “আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়’ রয়েছে। সেগুলো ‘গ্রহণযোগ্য’ কোনো ফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে বলেছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি ‘আত্মবিশ্বাসী’।
বিবিসি লিখেছে, ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
আরাগচি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, আলোচনার অংশীদার হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের আস্থা হারিয়েছি।”
তবে তিনি এও বলেছেন, এ অঞ্চলের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা সহজ হয়েছে।
এদিকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা আরব সাগরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
“[ট্রাম্প] নিয়মিত বলেন যে তিনি জাহাজ এনেছেন…ইরানি জাতি এসব দেখে ভীত হবে না,” বলেন খামেনি।
ইরান রোববার হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী নৌ-মহড়া শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ওই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান পথ।
তবে ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স রোববার জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এমন কোনো মহড়ার পরিকল্পনা নেই।
বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এলাকায় প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশটির প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। ইরান হামলার শিকার হলে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি অতীতে দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় তাদের বাহিনীর কাছাকাছি কোনো ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ না করতে ইরানকে সতর্ক করেছে।
জবাবে আরাগচি বলেছেন, “আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের ভূখণ্ডে কীভাবে মহড়া করবে, তা এখন নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী।”
ইরানে শনিবার দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি ভবনে গ্যাস লিকের বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হন।
ওই বিস্ফোরণে আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক কমান্ডারকে নিশানা করা হয়েছিল বলে সোশাল মিডিয়ায় খবর ছড়ালেও তা অস্বীকার করেছে তাসনিম।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহবাজে আরেকটি বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তেহরান টাইমস জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখানেও গ্যাস লিককে দায়ী করেছে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে ইরানকে দুটি কাজ করতে হবে।
“প্রথমত, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে অস্থিরতা শুরুর পর থেকে তারা ৬,৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর যাচাই করছে।
আর নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) সতর্ক করে বলেছে, মৃতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা বিবিসিকে বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর এমন প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন তারা আগে কখনো দেখেননি।
খামেনি তার রোববারের বক্তব্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ, আইআরজিসি এবং ব্যাংক ও মসজিদসহ অন্যান্য স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেছেন, “এই অভ্যুত্থান দমন করা হয়েছে।”