Published : 06 May 2026, 11:25 PM
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউজের সাংবাদিক সমিতির নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী হয়ত ইরান যুদ্ধে প্ররোচিত হয়ে এ কাজ করেছিলেন। এমনটিই ধারণা করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) গোয়েন্দা ও বিশ্লেষণী কার্যালয় তাদের প্রাথমিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের সঙ্গে ওই হামলার ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্রের এই ইঙ্গিত দিয়েছে।
দেশজুড়ে রাজ্য ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন। গত ২৭ এপ্রিলের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী কোল টমাস অ্যালেনের একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষোভ ছিল।
প্রতিবেদনে উপসংহার টেনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে দেওয়া অ্যালেনের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে এ ধারণাই পাওয়া গেছে যে, তার হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে ইরান সংঘাতের ভূমিকা থাকতে পারে।
গত ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সে সময় পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ পাওয়ার পর সেখান থেকে ট্রাম্পসহ অন্যান্য সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হামলাকারী অ্যালেনকে আটক করে অভিযোগ আনা হয় এবং পরে আদালেতেও তোলা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীর উদ্দেশ্য কি ছিল তা খুঁজছিলেন গোয়েন্দারা।
পশ্চিম এশিয়ায় হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করা ইরান যুদ্ধই যে হামলার মূল ‘ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনটি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।
মঙ্গলবার মার্কিন বিচার বিভাগ অ্যালেনের বিরুদ্ধে ‘ফেডারেল কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার’ নতুন একটি অভিযোগ যুক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা চৌকিতে এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং অবৈধ অস্ত্র পরিবহনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই অ্যালেনের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম গভীরভাবে পরীক্ষা করছে। বিশেষ করে ‘ব্লু-স্কাই’ অ্যাকাউন্টে তার দেওয়া পোস্টগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি, ইলন মাস্ক এবং ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে কড়া সমালোচনা পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীরা দেখেছেন, গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প যখন ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন, তখন অ্যালেন একটি পোস্টে ট্রাম্পের অভিশংসন দাবি করেছিলেন। তাছাড়া, ট্রাম্পের মেয়ে টিফানির একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়ে ট্রাম্পকে ‘শয়তান’ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।
ইশতেহার ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব:
হামলার রাতে অ্যালেন তার আত্মীয়দের একটি ইমেইল পাঠিয়েছিলেন, যাকে কর্মকর্তারা তার ‘ইশতেহার’ বলছেন। সেখানে তিনি প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়া ‘বিশ্বাসঘাতককে’ লক্ষ্যবস্তু করার কথা লিখেছিলেন, যদিও তিনি সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অ্যালেনের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণ হল, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঠেকানো। এর আগে ২০২৪ সালে পেনসিলভেইনিয়ায় বাটলারের জনসভায় ট্রাম্পের ওপর হামলার সময় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর উদ্দেশ্য নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল, যা এবার এড়াতে চায় প্রশাসন।