Published : 08 May 2025, 01:52 AM
ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রয়াত ধর্মগুরু ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি বেছে নিতে বুধবার শুরু হওয়া গোপন কনক্লেভে প্রথম দফা ভোটের পর সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে বেরোতে দেখা গেছে ‘কালো ধোঁয়া’।
এই কালো ধোঁয়ার মানে পোপ নির্বাচন হয়নি। ফলে নতুন করে আরেক দফা ভোট হতে চলেছে বৃহস্পতিবার। এদিনও কেউ পোপ নির্বাচিত না হলে চলবে আরও ভোট।
ভ্যাটিকানের সিসটিন চ্যাপেলে বুধবার রোমান ক্যাথলিক কার্ডিনালরা বসেন নতুন পোপ নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে, যিনি নানা মতে বিভক্ত কিন্তু বৈচিত্রে ভরা চার্চকে একত্রিত করতে পারবেন বলে তাদের আশা।
এই সিস্টিন চ্যাপেলে ঢোকার পরই কার্ডিনালদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে বহির্বিশ্বের সব যোগাযোগ। ভোট প্রক্রিয়া চলার সময় বাইরের দুনিয়া কেবল চোখ রাখবে সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনির দিকে।
পোপ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কার্ডিনালরা ওই চ্যাপেলেই থাকবেন এবং চিমনি দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হলেই বোঝা যাবে পোপ নির্বাচন হয়ে গেছে।
কনক্লেভের প্রথম দিনে সাধারণত পোপ নির্বচন হতে দেখা যায় না। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে অন্যান্যবারের মতো এবারও কয়েকদফা ভোটেই হয়ত পোপ নির্বাচন হতে পারে।
একাধিক দফা ভোটের পর লাল টুপি পরা ‘চার্চের কোনো এক রাজপুত্র’ পাবেন উপস্থিত কার্ডিনালদের দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন, হবেন ক্যাথলিক চার্চের ২৬৭তম সর্বেসর্বা।
বুধবার কেবল একবারই ভোট হয়েছে। এরপর কার্ডিনালরা দিনে চারবার পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন।
কোনো ভোটে কেউ দুই তৃতীয়াংশের বেশি ভোট পেলে সিসটিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে বের হবে সাদা ধোঁয়া, বাজবে ঘণ্টাধ্বনি। তার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক ভোটের পর চিমনি দিয়ে বের হবে কালো ধোঁয়া।
পোপ ক্যাথলিকদের হলেও তার প্রভাব বিস্তর, বিশ্ব রাজনীতিতে আর কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুর এমন প্রভাব দেখা যায় না।
পোপ নির্বাচনে অংশ নিতে এবার ৭০টি দেশের রেকর্ড ১৩৩ কার্ডিনাল সিসটিন চ্যাপেলে ঢুকেছেন বলে ধারণা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফ্রান্সিস যেবার পোপ হয়েছিলেন, সেই ২০১৩ সালের কনক্লেভে ছিলেন ৪৮ দেশের ১১৫ কার্ডিনাল।
নতুন পোপ কে হতে পারেন, তা নিয়ে ইউরোপের গণমাধ্যমগুলো ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা করছে। তাদের হিসাবে, কনক্লেভে লড়াই হতে পারে ইতালীয় কার্ডিনাল পিয়েত্র পারোলিন ও ফিলিপিন্সের কার্ডিনাল লুইস আন্তোনিও তাগলের মধ্যে।
নতুন পোপ কেমন হওয়া উচিত, কার্ডিনালদের মধ্যে এ নিয়ে পরিষ্কার বিভক্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
কেউ চাইছেন ফ্রান্সিসের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, কেউ চাইছেন ক্যাথলিক চার্চ তার পুরনো রক্ষণশীল ধারায় ফেরত যাক, অনেকে আবার চাইছেন ভ্যাটিকানের সিংহাসনে এমন কেউ বসুক, যিনি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবেন।