Published : 22 Dec 2025, 07:16 PM
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছিল কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সম্পর্কিত ফাইলগুলোর বেশ কিছু নথি, যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবিও ছিল।
তুমুল সমালোচনার মুখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে ফিরে এসেছে ট্রাম্পের উধাও হয়ে যাওয়া সেই ছবি।
ছবি সরানোর ব্যাখ্যায় বিচার বিভাগ বলছে, এ ছবি প্রকাশ পেলে যৌন কেলেঙ্কারিতে ভুক্তভোগীদের ছবিও প্রকাশ্যে আসত। তাই মূলত ভুক্তভোগীদের উদ্বেগের কারণে ছবিটি সরানো হয় বলে রোববার জানান উপ অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ।
তিনি ছবি সরানোর পেছনে রাজনৈতিক কোনও উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ছবিটি সরানোর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কোনও সম্পর্ক নেই; বরং ওই ছবিতে কিছু নারীর ছবি ছিল যেগুলো সম্পাদিত ছিল না। উদ্বেগটা তাদের নিয়েই।
তাই সতর্কতার কারণে, বিচার বিভাগ আরও পর্যালোচনার জন্য ছবিটি সাময়িকভাবে সরিয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত কয়েক হাজার নথি প্রকাশের পর শনিবার কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ওয়েবসাইট থেকে অন্তত ১৩টি ফাইল উধাও হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ছবিতে ট্রাম্পকে দেখা গিয়েছিল।
এই ঘটনার পরই শুরু হয় তুমুল সমালোচনার ঝড়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাউস ওভারসাইট কমিটি এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে লেখে, “এপস্টেইন ফাইলের ৪৬৮ নম্বর নথি বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
কারণ, ওটা থাকলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যেত। কী ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে?”
এরপরই রোববার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানায়, নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ছবিটিকে ‘ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার স্বার্থে’ চিহ্নিত করেছিল এবং পর্যালোচনার জন্য সরিয়ে নিয়েছিল।
তবে পুনরায় পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, ছবিতে এপস্টেইনের কোনও ভুক্তভোগীর উপস্থিতি নেই। ফলে কোনও ধরনের পরিবর্তন বা কাটছাঁট ছাড়াই ছবিটি আবার ওয়েবসাইটে ফেরানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বিতর্কিত ছবিটি এপস্টেইনের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তাতে একটি ড্রয়ারের ভেতর বেশ কিছু ছবি দেখা গেছে, যার একটিতে ডনাল্ড ট্রাম্প, মেলানিয়া ট্রাম্প এবং এপস্টাইনের সাজাপ্রাপ্ত সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে একসঙ্গে দেখা গেছে।
কিন্তু সেই ছবি আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয় মার্কিন বিচারবিভাগের ওয়েবসাইট থেকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ডেমোক্র্যাটরা সুর চড়ান। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজের পদ খাটিয়ে তদন্ত প্রভাবিত করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব নথি আবার প্রকাশ না করলে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের আইনপ্রণেতারা। বিরোধীদের এই তোপে পড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছবি ফেরাল মার্কিন বিচারবিভাগ।
ডনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের সঙ্গে কোনও ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে এসেছেন এবং এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে এপস্টেইন সংক্রান্ত আরও হাজার হাজার নথি পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
বিবিসি জানায়, শুক্রবার প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের অপরাধ নিয়ে নতুন তথ্য খুব কমই পাওয়া গেছে। তবে এতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির আগে না দেখা ছবি পাওয়া গেছে।