Published : 14 Jul 2026, 05:42 PM
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষাগ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর কথিত কটূক্তির প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফের রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন।
বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
এদিন দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড় আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরে দুপুরে তারা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্দেশে রওনা হন।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদের বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা পলাশী হয়ে হয়ে শিক্ষা বোর্ডের দিকে রওনা হন।
আন্দোলনকারীরা দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা। এরপর তারা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ফিরে ফের সড়ক আটকিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর আমরা তাদের আলোচনার প্রস্তাব দিই।
“একপর্যায়ে তারা জানান, তাদের পাঁচ থেকে সাত জনের প্রতিনিধি দল আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু পরে কথা না বলেই তারা সরে গেছেন।”
ঢাকা-ময়নসিংহ মহাসড়ক তীব্র জট
প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকার কথা বলেছেন ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহজাহান হোসেন। এর ফলে সড়কের দুই পাশেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “বেলা ১২টার দিকে তারা সড়ক বন্ধ করেছে। এতোক্ষণ ধরে সড়ক বন্ধ থাকলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।”
ঘটনাস্থলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা সড়ক অবরোধ অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ট্রাফিক গুলশান বিভাগ সবশেষ আপডেটে জানিয়েছে, উত্তরা বিএনএস টাওয়ারের সামনে এবং ইসিবি চত্বরের উভয় পাশে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় নাগরিকদের ‘সম্ভব হলে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের’ অনুরোধ জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। একইসঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের তরফে নিরলসভাবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
কী কারণে আন্দোলন
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও বিকল্প উপায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাসা থেকে বের হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক কথোপকথন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ তুলে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে—শিক্ষামন্ত্রী’, ‘দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘জ্বালো রে জ্বালো—আগুন জ্বালো’, ‘আপস না সংগ্রাম—সংগ্রাম, সংগ্রাম’।
বিএএফ শাহীন কলেজের এক পরীক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে। উনি অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ। উনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।
“পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে যখন গতকাল সমালোচনা চলছে, তখন একটা ভিডিওতে দেখলাম উনি টেলিফোনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলে সম্বোধন করছেন। উনি কেন আমাদের ফার্মের মুরগি বলবেন? উনার এ বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”