Published : 23 Mar 2026, 07:00 PM
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি থেকে আপাতত পিছু হটেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে জানিয়ে সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার যে হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছিলেন, আগামী পাঁচ দিন সেই হামলা স্থগিত রাখছেন।
ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শত্রুতার একটি পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক সমাধানের বিষয়ে গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে।”
ট্রাম্প আরও জানান, “এই গভীর, বিস্তারিত আর গঠনমূলক আলোচনার মেজাজ ও সুরের ভিত্তিতে আমি ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ারকে’ ইরানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যে কোনো এবং সমস্ত সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি।”
সপ্তাহজুড়ে আলোচনা চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, “হামলা চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টির জন্য ধন্যবাদ।”
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে আলোচনার কথা বলেছেন, সে সম্পর্কে ইরান নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।
উপরন্তু ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুরই পাওয়া গেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো আলোচনা হয়নি।
ফারস নিউজে বলা হয়েছে, ইরান যখন পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তখনই ট্রাম্প তার আগের অবস্থান থেকে পিছিয়ে এসেছেন এবং হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন।
ট্রাম্পের ঘোষণায় আগামী ৫ দিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আর কোনও হামলা হবে না বলেই আশা করা যায়।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চলমান বৈঠক এবং আলোচনার সাফল্যের উপরেই নির্ভর করছে এই স্থগিতাদেশ। অর্থাৎ, ট্রাম্প যদি মনে করেন আলোচনা সফল হচ্ছে না তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আবার হামলা শুরু হতে পারে।
এর আগে গত শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি সব ধরনের জাহাজের জন্য ‘পুরোপুরি খুলে’ না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। সোমবার সন্ধ্যা ৭:৪৪ মিনিটে (ইডিটি) এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এর জবাবে সোমবার সকালেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসি- পাল্টা হুমকি দিয়ে জানায়, যদি ট্রাম্প তাদের বিদ্যুৎ গ্রিড ধ্বংস করেন, তবে তারা ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্ল্যান্টগুলোতে হামলা চালাবে।
ট্রাম্পের হামলা আপাতত স্থগিত রাখার পদক্ষেপ হঠাৎ করেই নেওয়া মনে হলেও, আদতে গত শুক্রবারই তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই, কিন্তু কথা বলার মতো কেউ নেই…।’”
এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না হলেও ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিতাদেশের খবরে বিশ্ববাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফেরার আশা জেগেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরেই তেলের দাম ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। তবে ৫ দিন পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। তাছাড়া, এই ৫ দিনের বিরতি টিকবে কিনা, সেটিও একটি চ্যালেঞ্জ।