Published : 06 Feb 2026, 12:40 AM
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে পিটার ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বৃহস্পতিবার এক ভাষণে এপস্টেইনের শিকার যারা হয়েছেন তাদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকার পরও ২০২৪ সালে পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ক্ষমতসীন লেবার পার্টির এমপি’দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ম্যান্ডেলসন গত ২ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর তার বিরুদ্ধে তদন্তের ডাক ওঠে। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরুও করেছে যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ।
তবে লেবার এমপি’রা ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করার প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এতটাই ক্ষুব্ধ যে, তারা তার পদত্যাগ দাবি করছেন। স্টারমার সবকিছু জেনেশুনেও ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি জোরাল হওয়ার মুখে স্টারমার ক্ষমা চাইলেন। ম্যান্ডেলসন তাকে মিথ্যা বলেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্টারমার। লেবার এমপি’দের ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি বোঝেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সময় যাচাই পক্রিয়ায় পিটার ম্যান্ডেলসন মিথ্যা কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ করে স্টারমার বলেন, “ম্যান্ডেলসন এমন একটি ভাব করেছিলেন যে, এপস্টেইনকে তিনি খুব কমই চেনেন।”
তিনি বলেন, “কথাগুলো যে মিথ্যা ছিল সেটি জানার কোনও কারণ তখন আমার ছিল না। পরে আমি সেটি জানতে পারি। কিন্তু প্রথমেই তাকে নিয়োগ দিয়ে দেওয়ার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।
“আমি দুঃখিত। আপনাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে তার জন্য দুঃখিত। ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা কথা বিশ্বাস করা এবং তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমি দুঃখিত,” বলেন স্টারমার।
ম্যান্ডেলসন গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন। গত বছরই এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ নতুন করে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করে। সেখানেও ম্যান্ডেলসনের ছবি আছে। একটি নথিতে বলা হয়েছে, তিনি যুক্তরাজ্যের সংবেদনশীল তথ্যও এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন। এ নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
২০০৮ সালে ম্যান্ডেলসন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে নিযুক্ত হয়েছিলেন। একই সময়ে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় ব্যবসায়িক মন্ত্রী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশের পর তাতে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম ছিল। এরপরই পার্টির সদস্যপদ ছাড়েন তিনি। আর তারপর তিনি হাউজ অব লর্ডস থেকেও স্থায়ীভাবে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।