Published : 14 Apr 2026, 11:55 PM
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া ইসরায়েল-লেবানন সরাসরি বৈঠকে শান্তি প্রক্রিয়ার একটি কাঠামো তৈরির বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ।
লেবাননে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন সরকার মঙ্গলবার এই আলোচনা শুরু করেছে। কয়েক দশক পর দুপক্ষে এটিই প্রথম সরাসরি বৈঠক।
এবারের বৈঠকে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েশিয়েল লাইটার এবং লেবাননের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ অংশ নিচ্ছেন। তবে বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতি আলোচনায় অগ্রগতি দেখার ওয়াশিংটনের ইচ্ছারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রুবিও লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে বৈঠক উদ্বোধন করেছেন। রুবিও বলেন, তিনি আশা করেন যে, এই আলোচনা থেকে লেবাননে সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া এবং ইরানের ছায়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া রুখতে একটি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “এটি একটি প্রক্রিয়া, কোনও ঘটনা নয়। এটি একদিনের বেশি সময়ের একটি প্রক্রিয়া। এতে সময় লাগবে।”
এই বৈঠককে ঐতিহাসিক অভিহিত করে রুবিও বলেন, “আমরা একটি ভিত গড়ার আশা করি। আজকে আশা করি আমরা স্থায়ী, টেকসই এক শান্তি প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে নিতে একটি কাঠামোর রূপরেখা তৈরি করতে পারব।”
ইসরায়েল-লেবানন বৈঠককে ঐতিহাসিক সুযোগ বলে মন্তব্য করে রুবিও বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সব জটিলতার সমাধান সম্ভব না হলেও আলোচনায় জড়িত পক্ষগুলো সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া শুরু করবে বলেই তিনি আশা করেন।
পরিস্থিতিতে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনার পট প্রস্তুত হয় গত সপ্তাহান্তে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতের মধ্যে এক নজিরবিহীন ফোনকলের মাধ্যমে। কারণ, দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে মঙ্গলবার দুই দেশ এই আলোচনায় বসেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হওয়ার পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ করেনি। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
এই হামলার ফলে বহু মানুষ নিহত হওয়া ছাড়াও লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও ছয় হাজার পাঁচশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
লেবানন বলেছে, দেশটিতে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করাই আলোচনার লক্ষ্য।
তবে ইসরায়েল বলছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা নয়, বরং হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ করা নিয়ে তারা আলোচনা করতে চায়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয় গত সপ্তাহে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সেই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন পিড়ে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে দেশটিতে হামলা আরও জোরদার করেন।
এরপর তিনি লেবানন সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার ঘোষণা দেন।