Published : 13 May 2026, 12:41 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে তার চীনের সাহায্যের কোনো প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।
বেইজিংয়ে শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকের আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, এই সংঘাত অবসানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পক্ষভুক্ত করার দরকার হবে না বলে মনে করছেন তিনি।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না ইরানের বিষয়ে আমাদের কোনো সাহায্য লাগবে। আমরা একভাবে না একভাবে এটি জয় করবো, শান্তিপূর্ণভাবে অথবা অন্যভাবে।”
একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর একমাসের বেশি পারও হলেও শত্রুতা শেষ করতে একটি চুক্তির বিষয়ে কোনো অগ্রগতিই অর্জন করতে পারেনি ওয়াশিংটন ও তেহরান।
মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, গত মাসে মার্কিন ও চীনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত হয়েছিলেন যে কোনো দেশেরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের শীর্ষ বৈঠকের আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের ঐক্যমত তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, লিখেছে রয়টার্স।
ইরানের সঙ্গে মিত্রতা মেনে চলা ও তাদের জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন ট্রাম্প প্রশাসনের ওই দাবি নিয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হতো।
এদিকে ইরান সংকীর্ণ এই জলপথটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করেছে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটি পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, অন্য দেশগুলোও একই ধরনের চুক্তির সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছে। তেমনটি হলে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিক হওয়ার ভিত্তি আরও দৃঢ় হতে পারে।
বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি-য়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৈঠক হওয়ার সূচী আছে। এই বৈঠকে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে তেহরানকে প্রভাবিত করার জন্য চীনকে উৎসাহিত করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী থেকে সরে আসবে আর হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেবে।
মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরান তাদের নিজেদের দাবি উত্থাপন করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইরানি বন্দরগুলো থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে হবে আর লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
সোমবার ইরানের এসব দাবিকে ‘আবর্জনা’ অবহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন:
ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধ করা অর্থনৈতিক কষ্টের চেয়েও বেশি জরুরি
যুদ্ধ যখন ছড়িয়ে পড়ছিল, 'গোপনে ইরানে হামলা চালায়' সৌদি আরব