Published : 13 May 2026, 10:05 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টায় আমেরিকানদের আর্থিক কষ্ট তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলছে না, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি তাকে একটা চুক্তি করতে কতোটা প্ররোচিত করছে, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “একটুও না।”
রয়টার্স জানিয়েছে, চীন সফরের উদ্দেশে হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, “যখন আমি ইরানের বিষয়ে কথা বলি, একমাত্র যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতির কথা আমি চিন্তা করছি না। আমি কাউকে নিয়েই ভাবছি না।
“আমি শুধু একটা বিষয়ই ভাবছি: আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দিতে পারি না। এটাই সব। এটাই একমাত্র বিষয় যা আমাকে প্ররোচিত করে।”
ট্রাম্পের এসব মন্তব্য সমালোচকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে আমেরিকানদের ওপর পড়া অর্থনৈতিক প্রভাবের ভারসাম্য আনা; বিশেষভাবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ ভোটারদের জন্য প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
রয়টার্স জানায়, প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউজের জনসংযোগ পরিচালক স্টিভেন চং বলেন, “আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই হলো ট্রাম্পের চূড়ান্ত দায়িত্ব। ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না আর পদক্ষেপ যদি না নেওয়া হয় তাহলে তারা একটির অধিকারী হয়ে যাবে, যা সব আমেরিকানকে হুমকিতে ফেলবে।”
যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক কষ্ট রিপাবলিকান পার্টিকে বিপর্যয়ে ফেলতে পারে আর এর ফলে নভেম্বরের নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সম্ভবত সেনেটও ক্ষমতাসীন দলটির হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন ট্রাম্পের সহকর্মী রিপাবলিকানরা। ফলে তারা ট্রাম্পের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।
ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম বেড়ে যাচ্ছে যা মুল্যস্ফীতির কারণ হচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
আরও পড়ুন:
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে ২৯০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে: পেন্টাগন