Published : 11 Dec 2025, 04:35 PM
নভেম্বরের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলা প্রাণঘাতী ঝড়গুলো সমুদ্রের উচ্চ তাপমাত্রায় ‘সুপারচার্জড’ বা বেশি শক্তিধর হয়ে উঠেছিল; পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে দ্রুত বন উজাড়ের কারণে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মালাক্কা প্রণালীতে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ জনের প্রাণ। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপেই ৯৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে ক্ষয়ক্ষতি পূরণে অন্তত ৩০০ কোটি ডলারের সহায়তা দরকার পড়বে।
শ্রীলঙ্কায় সাইক্লোন দিতওয়ার কারণে সৃষ্ট বন্যা, ভূমিধসে মৃত্যু ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে, সেখানেও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০০ কোটি ডলার হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কায় ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ডিটওয়াহের কারণে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মৃত্যু হয়েছে ৬০০ জনের বেশি এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৭০০ কোটি ডলার।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের একটি দল বলছে, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি যে ৫ দিন হয়েছিল, তখন উত্তর ভারত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রার গড়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা ঝড়গুলোর শক্তি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
গবেষকদের অনুমান, বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি এখন প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি না হতো, তাহলে ওই এলাকায় নভেম্বরের শেষদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এখনকার চেয়ে প্রায় ১ ডিগ্রি কম থাকতো।
বর্ষাকালে উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় স্বাভাবিক। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়ের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে এমন প্রমাণ না থাকলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রের উচ্চ তাপমাত্রা প্রতিটি ঝড়কে আরও বিধ্বংসী করে তুলছে।
“ঝড়গুলোর ক্রমবর্ধমান তীব্রতা এবং যেভাবে সেগুলো লাখ লাখ মানুষের জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসছে, শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, তা স্বাভাবিক নয়,” বলেছেন রয়্যাল নেদারল্যান্ডস মেটেরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের জলবায়ু গবেষক এবং নভেম্বরের ঝড়গুলো নিয়ে গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেওয়া সারাহ কিউ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝড়গুলোর শক্তি কতটুকু বেড়েছে গবেষকরা তা ঠিকঠাক বের করতে না পারলেও বলছেন, মালাক্কা প্রণালীতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ৯ থেকে ৫০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ২৮ থেকে ১৬০ শতাংশ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধির কারণে হতে পারে।
নতুন নতুন এলাকায় ঝড় সৃষ্টি হওয়ায় এবং ভিন্ন ভিন্ন গতিপথ অনুসরণ করায় আরও বেশি অঞ্চল আবহাওয়ার রুদ্ররোষের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্কও করেছেন।
মালাক্কা প্রণালীতে সেনিয়ারের জন্মকেও অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন তারা। এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় যত ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে তার মধ্যে পশ্চিম দিক থেকে যাওয়া এটি দ্বিতীয় কোনো ঝড়, বলছেন অনেক বিজ্ঞানী।