Published : 22 Mar 2026, 12:21 PM
ইসরায়েলের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র যে শহরে সেই ডিমোনায় ও নিকটবর্তী আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক ইসরায়েলি আহত হয়েছে বলে দেশটির উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।
এই হামলার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের অন্যতম নাটকীয় বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম শনিবার ডিমোনায় চালানো এই আক্রমণকে একই দিন এর আগে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কমপ্লেক্সে ইসরায়েলের চালানো হামলার ‘প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলে এয়ার ডিফেন্স ইরানের ছোড়া অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো ডিমোনা ও আরাদে আঘাত হানে। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, আরাদে অন্তত ৮৮ জন আহত হয়েছে আর তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহরটির কেন্দ্রস্থল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খবর।
ডিমোনায় আরও ৩৯ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক বালকের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন। এখানে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার পর বলেছেন, “এটি ইসরায়েলের জন্য একটি কঠিন সন্ধ্যা।”
দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলার সময় ইসরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কার্যকর ছিল কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়, যদিও সেগুলো ‘বিশেষ বা অপরিচিত’ ধরনের কিছু ছিল না।
দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি আঘাত হেনেছে আর এগুলোর ওয়ারহেডগুলো কয়েকশ কিলোগ্রাম ওজনের ছিল।
আল জাজিরার এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ডিমোনার পৃথক তিনটি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একটি তিনতলা ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে আর বেশ কয়েকটিতে আগুন ধরে যায়।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রটি ডিমোনা থেকে ১০ ও আরাদ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ১৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যাদের মধ্যে শিশু ২০০ জনেরও বেশি।