Published : 20 Feb 2026, 10:10 AM
সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে অসদাচরণের অভিযাগে গ্রেপ্তার সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স ও রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে তদন্তাধীন অবস্থায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে টেমস ভ্যালি পুলিশ।
এলশাম থানা থেকে বের হওয়ার পর অ্যান্ড্রুর একটি গাড়ির পেছনের সিটে বসার ছবিও মিলেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে টেমস ভ্যালি পুলিশ বলেছিল, তারা নরফোক থেকে ৬০ এর ঘরে বয়সের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ওই ব্যক্তির বার্কশায়ার ও নরফোকের ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ভাইয়ের গ্রেপ্তারের খবরের প্রতিক্রিয়ায় রাজা চার্লস বলেছিলেন, আইন তার ‘নিজস্ব গতিতে চলবে’ এবং পুলিশের প্রতি তার ‘পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন রয়েছে’। প্রিন্স এবং প্রিন্সেস অব ওয়েলসও যে এ বক্তব্যের সঙ্গে সহমত বিবিসি তা বুঝতে পেরেছে।
পুলিশ এর আগে বলেছিল, তারা প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পৃক্ততা বিষয়ক অভিযোগ তদন্ত করা হবে কিনা তা তারা বিবেচনা করছে। সাবেক এ প্রিন্স গোপনীয় কোনো তথ্য বা নথি শেয়ার করেছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্রের যে বিশাল ভাণ্ডার প্রকাশ করেছে তাতেই অ্যান্ড্রুর সঙ্গে প্রয়াত ওই যৌন নিপীড়কের যোগাযোগ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেওয়া বিবৃতিতে টেমস ভ্যালি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ‘তদন্ত চলাকালেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ এবং তার নরফোকের ঠিকানায় তল্লাশি শেষ হয়েছে।
এবারই প্রথম অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার হলেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে ও জোরের সঙ্গে কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছিলেন।
তবে টেমস ভ্যালি পুলিশ বলছে, ‘বিস্তৃত মূল্যায়নের’ পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তারের আগে টেমস ভ্যালি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল বলেও বিবিসি বুঝতে পেরেছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে স্যান্ড্রিংহাম এলাকা থেকে অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়; তার এ গ্রেপ্তারের সঙ্গে যৌন অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
বার্কশায়ারে উইন্ডসরের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু রাজার নরফোকের বাড়িতেই থাকতেন। উইন্ডসর গ্রেট পার্কে অ্যান্ড্রুর আগের বাসস্থান রয়্যাল লজেও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে বিবিসি বুঝতে পেরেছে। ওই বাড়ির ফটকের বাইরে ইউনিফর্ম পরা কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখাও গেছে।
“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। মামলাটি এখন সক্রিয় রয়েছে। তাই আদালত অবমাননার ঝুঁকি এড়াতে যেকোনও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত”, পরে বিবৃতিতে বলেছে টেমস ভ্যালি পুলিশ।
সহকারী প্রধান কনস্টেবল অলিভার রাইট বলেছেন, “এই মামলার ব্যাপারে জনগণের ব্যাপক আগ্রহ আছে বলে বুঝতে পারছি আমরা, যথাসময়ে আপডেট দিবো আমরা।”
নরফোক পুলিশ বিভাগ বিবিসিকে বলেছে, তারা সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণ নিয়ে টেমস ভ্যালি পুলিশের তদন্তে সহায়তা করবে।
সাবেক ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছেন। তার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
২০১০ সালে অ্যান্ড্রু ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও চীন সফর সংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদন এপস্টেইনকে পাঠিয়েছিলেন বলে প্রয়াত বিনিয়োগকারীকে নিয়ে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে আভাস মিলেছে।
আফগানিস্তানে ইউরেনিয়াম ও সোনায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিষয়ক তথ্যও অ্যান্ড্রু এপস্টেইনকে পাঠিয়েছিলেন বলে নথিতে ধারণা পাওয়া গেছে।
সরকারি নিয়ম মোতাবেক, বাণিজ্য দূতদের তাদের সরকারি সফর বিষয়ক রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখার দায়িত্ব রয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিজের ৬৬তম জন্মদিনেই অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ গ্রেপ্তারের বিষয়ে রাজা চার্লস বা বাকিংহাম প্রাসাদকে আগেভাগে সতর্ক করা হয়নি বলেই ধারণা বিবিসির।
লিংক-
ব্রিটিশ রাজার ভাই অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার: আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, বললেন চার্লস