Published : 08 Sep 2025, 02:32 PM
জাপানের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার স্থলাভিষিক্ত হতে ক্ষমতাসীন দলের প্রথম সাংসদ হিসেবে নির্বাচনী দৌড়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও নতুন নেতা বেছে নেওয়ার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে মুদ্রা ও শেয়ার বাজারে ব্যাপক অস্থিরতাও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের ভোটে দল আর জোটের বিপর্যয়ের দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে রোববার ইশিবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সংক্ষিপ্ত মেয়াদের ইতি টানেন।
জীবনযাপনের খরচবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষে ইশিবার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও ক্ষমতাসীন জোট পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এলডিপিই বেশিরভাগ সময় জাপান শাসন করে আসছে।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রোববার এলডিপির নেতা ইশিবা জানান, তিনি তার দলকে জরুরিভিত্তিতে পরবর্তী নেতা বেছে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
নেতৃত্ব নির্বাচনের এই ভোট ৪ অক্টোবর করার পরিকল্পনা করছে এলডিপি, বিষয়টি সম্বন্ধে জানে দলের এমন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন।
রক্ষণশীল আর্থিক নীতির সমর্থক সানায়ে তাকাইচিসহ ইশিবার সম্ভাব্য উত্তরসূরীরা বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত শিল্পোন্নত অর্থনীতির দেশটিতে সরকারি ব্যয় বাড়াতে পারেন এ আশঙ্কায় সোমবার জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দরপতন, অন্যদিকে শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে।
“প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে বাজে সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এলডিপি। দেশে-বিদেশে যেসব গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা রয়েছি তা মোকাবেলা আমাদের দ্রুতই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে,” দলের নেতা হওয়ার দৌড়ে নামার ঘোষণা দেওয়া ৬৯ বছর বয়সী মোতেগি সোমবার সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন।
জাপান সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র ও মন্ত্রিসভার প্রধান সমন্বয়কারী ইয়োশিমাসা হায়াশিও নেতৃত্ব নির্বাচনে নামতে আগ্রহী বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
তবে এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দুই প্রার্থী হচ্ছেন- এলডিপির দীর্ঘদিনের মুখ তাকাইচি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির ছেলে শিনিজিরো কোইজুমি।
শেষ পর্যন্ত ৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হলে জাপান পাবে প্রথম নারী সরকারপ্রধান। আর ৪৪ বছর বয়সী শিনিজিরো কোইজুমি হলে তিনি হবেন সাম্প্রতিককালে দেশটির সবচেয়ে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী।
দুজনের কেউই এখন পর্যন্ত তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেননি। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেতৃত্ব নির্বাচনের লড়াইয়ে তারা ইশিবার পরের দুটি স্থান দখল করেছিলেন।
“সব ইঙ্গিতই বলছে এ দুজনই একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন,” বলেছেন কান্ডা ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জাপানবিদ্যার প্রভাষক জেফরি হল।
বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ও জাপানের কূটনৈতিক মহলের কাছে ‘ফেভারিট’ হচ্ছে তাকাইচি, যিনি এর আগে আর্থিক নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়সহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলেছেন।
তাকাইচি ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বাড়ানোর বিপক্ষে, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সবল করতে ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে।
জাপানের নতুন নেতা কে হচ্ছেন, তার দিকে প্রভাবশালী প্রতিবেশী চীনেরও কড়া নজর রয়েছে।
শান্তিপ্রিয় সংবিধান সংশোধনসহ নানান ক্ষেত্রে রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত তাকাইচি জাপানের মৃত সেনাদের সম্মান জানাতে নিয়মিতই বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মঠে যান। বেইজিংসহ অনেকেই এই মঠকে জাপানের অতীতকালের সামরিকায়নের প্রতীক মনে করে।
চলতি বছরের প্রথম দিকে তাকাইচি তাওয়ানও সফর করেছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাইওয়ান, জাপান ও অন্য মিত্রদের নিয়ে এক ধরনের ‘অনানুষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোট’ গড়ারও পরামর্শ দিয়েছিলেন।
চীন স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে তার নিজের অংশ মনে করে। তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হয়ে তার এখনকার অবস্থান বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে তা বেইজিংকে আরও ক্ষেপিয়ে তুলবে বলেই অনেকের আশঙ্কা।