Published : 20 Feb 2026, 02:23 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এলিয়েন ও শনাক্ত করা যায়নি এমন উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিতে যাচ্ছেন।
এসব বিষয়ে জনগণের প্রবল আগ্রহ বিবেচনায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ ও অন্যান্য সংস্থাকে এলিয়েন ও আনআইডিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট (ইউএফও) বিষয়ক তথ্য প্রকাশে নির্দেশ দেবেন। ট্রাম্প একে ‘অত্যন্ত আগ্রহোদ্দীপক ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলেও অভিহিত করেছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য বেআইনিভাবে প্রকাশের অভিযোগ আনেন। এলিয়েন সম্বন্ধে জনসমক্ষে আলোচনা করতে গিয়েই ওবামা ‘ওই বড় ভুল করেছেন’ বলে তার দাবি।
“তিনি গোপন তথ্য থেকে এসব নিয়েছেন। এগুলো করা উচিত নয় তার,” জর্জিয়া যাওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
শনিবার প্রকাশিত হওয়া ব্রায়ান টাইলার কোহেনের সঙ্গে এক পডকাস্টে ওবামার কাছে বাস্তবে এলিয়েন বলে কিছু আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
“তারা আছে, কিন্তু আমি তাদের দেখিনি, আর তাদেরকে এরিয়া ৫১-তে রাখাও হয়নি। যদি না বড় কোনো ষড়যন্ত্র হয় এবং তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এটি লুকিয়ে রাখে, এমন কোনো ভূগর্ভস্থ স্থাপনাই নেই,” বলেছিলেন ওবামা।
নেভাদায় মার্কিন বাহিনীর গোপন বিমান ঘাঁটি এরিয়া ৫১ নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা বিশ্বজুড়ে চাউর হয়েছে। সেখানে এলিয়েনের মৃতদেহ ও একটি ভূপাতিত মহাকাশযান আছে বলে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী অনেকে মনে করেন। তবে ২০১৩ সালে প্রকাশিত সিআইয়ের আর্কাইভ বলছে, ওই ঘাঁটিতে মূলত অতি-গোপনীয় গুপ্তচর বিমানের পরীক্ষা চলে।
পডকাস্টে দেওয়া মন্তব্যে ওবামা গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ওবামার কার্যালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
“সত্যিই, আমি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পৃথিবীর বাইরের কোনো প্রাণী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এমন প্রমাণ দেখিনি,” রোববার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে এ কথা বলেছেন ওবামা।
পোস্টে ওবামা পডকাস্টে তার মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, মহাবিশ্ব বিশাল হওয়ায় পৃথিবীর বাইরেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রকট বলেই তিনি এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। কিন্তু দূরত্বের কথা বিবেচনায় নিলে তাদের পৃথিবীতে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।
ওবামাকে নিয়ে মন্তব্য করার পর ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, এলিয়েন বাস্তবে আছে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখেননি তিনি।
“তারা সত্যিই আছে কি নেই তা জানি না আমি,” বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেন্টাগন ইউএফও সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখেছে। ২০২২ সালে একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, এলিয়েন পৃথিবীতে এসেছিল বা তাদের যান এখানে ভূপাতিত হয়েছিল বলে ইঙ্গিত আছে এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ পাননি তারা।
পেন্টাগনের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সরকার যত তদন্ত করেছে তার কোনোটিতেই মহাজাগতিক কোনো প্রযুক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইউএফও দেখতে পাওয়ার যেসব দাবি এসেছে সেগুলোর বেশিরভাগই তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত না হওয়া সাধারণ জিনিস কিংবা প্রাকৃতিক ঘটনা।