Published : 12 Jan 2026, 12:08 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে দেশটির সরকার যা করছে তার প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ‘কঠোর বিকল্পের’ কথা বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টিও রয়েছে।
“আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সামরিক বাহিনীও দেখছে, আমরা খুবই কঠোর কিছু বিকল্প বিবেচনা করছি। আমরা সিন্ধান্ত নেবো,” রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের তিনি এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট জানান, তার সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতারা ফোন করে ‘আলোচনা’ করতে চেয়েছেন এবং একটি ‘বৈঠকের আয়োজন প্রক্রিয়াধীন’।
“তবে হয়তো বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে,” বলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার দিনের প্রথমভাগে ইরানের নেতারা ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন।
দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছিলেন, “ইরানের ওপর হামলা হলে, দখলকৃত অঞ্চল (ইসরায়েল) ও এর পাশাপাশি সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ নিশানায় পরিণত হবে।”
ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ শুরু করলে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে এবারের বিক্ষোভের সূচনা হয়। বিক্ষোভ দ্রুতই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ দ্রুতই ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানে ক্ষমতাসীন মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়।
এবারের অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৯ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং এর পাশাপাশি কয়েকশ বিক্ষোভকারীও নিহত হয়েছে বলে ইরানের বাইরে থাকা অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করছেন।
দেশটিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটও ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলছে বলে জানিয়েছে একাধিক পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ান রোববার বলেছেন, তার সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘কথা শুনতে প্রস্তুত’। তবে তিনি একইসঙ্গে সাধারণ জনগণকে ‘দাঙ্গাকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী উপাদানগুলোর’ অরাজকতা ঠেকাতে মাঠে নামতেও আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে বলেছেন, গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ চালানো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রই ইরানজুড়ে এবারের অস্থিরতার ‘মাস্টারমাইন্ড’।
“যারা এই দেশে হামলা চালিয়েছিল, সেই একই গোষ্ঠী অর্থনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে,” বলেছেন তিনি।
এমন এক সময়ে ইরানে এ অস্থিরতা চলছে যখন ট্রাম্প তার আগ্রসী পররাষ্ট্র নীতির বাস্তবায়নে একের পর এক এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন যা বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে। তিনি এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছেন, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড আপোসে ক্রয় কিংবা বল প্রয়োগ করে দখলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইরানে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়ে মঙ্গলবার ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টাদের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা করার কথা রয়েছে বলে মার্কিন এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন।
সেখানে যে যে পদক্ষেপের ব্যাপারে আলোচনা হওয়ার কথা তার মধ্যে সামরিক হামলা, গোপন সাইবারঅস্ত্রের ব্যবহার, বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ও সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইন সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলো রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
রোববার ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানে ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি ভাবছেন।
“এসব বিষয়ে সে খুবই ভালো। তার চমৎকার একটি কোম্পানি রয়েছে,” ইরানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় মাস্কের স্পেসএক্সকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন ট্রাম্প।