Published : 12 Jul 2026, 10:26 PM
ইরাক, সিরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র মিলে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত ৫০০ মাইলের এক ঐতিহাসিক পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে।
হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মিডল ইস্ট আই পত্রিকাকে জানিয়েছেন ইরাকি ও আঞ্চলিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উত্তর ইরাকের কিরকুক শহর থেকে সিরিয়ার উপকূলীয় শহর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির বৈঠকের সময় এটি প্রকাশ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি সূত্র।
তুরস্কে ট্রাম্পের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাক বিষয়ক দূত টম বারাক ইরাকের প্রধানমন্ত্রী জাইদির সফরের আগেই এই চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে কাজ করছেন। এই সফরে মার্কিন জ্বালানি হাব হিসেবে পরিচিত টেক্সাস রাজ্যেও জাইদির যাওয়ার কথা রয়েছে।
ঊর্ধ্বতন এক ইরাকি কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আই কে বলেছেন, টম বারাক প্রধানমন্ত্রী জাইদির সঙ্গে একটি ভাল কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
তিনি এই পাইপলাইনকে লেভান্ত অঞ্চলে ব্যবসায়িক প্রকল্পের মডেল হিসেবে ব্যবহার করতে চান, যা যুক্তরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার দু’পক্ষকেই লাভবান করবে বলে তিনি প্রচার করে আসছেন।
১৯৫২ সালে ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার এই পাইপলাইনটি তৈরি করেছিল।
আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরানের পক্ষ নিলে বাগদাদ এই পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে।
লাইনটি চালু করতে নতুন স্টোরেজ ট্যাংক, পাম্প এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাসহ আরও মেরামতের প্রয়োজন। এক আঞ্চলিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পাইপলাইনটি সম্ভবত পুরোপুরি নতুন করে তৈরি করতে হবে, যাতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও জানান, এই পুনর্নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি কনসোর্টিয়াম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিকেই নির্দেশ করে।
২০২৪ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ইসলামপন্থি যোদ্ধারা দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সিরিয়া ও ইরাক এই পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহ দেখিয়েছিল।
তবে সেই প্রাথমিক আলোচনা তখন গতি পায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পর বানিয়াস পাইপলাইন চালুর বিষয়টি নতুন করে জরুরি হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক সারহাং হামাসায়িদ বলেন, “ইরাক এখন সিরিয়াকে ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করেছে। যুদ্ধের আগে এক ধরনের সংশয় থাকলেও যুদ্ধের বাস্তবতা এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরাকের জন্য সিরিয়াকে প্রয়োজন।”
আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাইপলাইন চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।