Published : 22 Jun 2023, 03:14 PM
অক্সিজেন শেষ হয়ে আসছে, ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ডুবোযানে আটকা, তাও সম্ভবত কয়েক হাজার ফুট পানির নিচে- এমন পরিস্থিতিতে বদ্ধ ঘরে আটকে থাকাজনিত ভীতি বা আতঙ্ক স্বাভাবিক।
তবে কেবল এটাই নয়, নিখোঁজ ডুবোযান টাইটানের ভেতরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়া থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসা, অচেতন হয়ে পড়াসহ আরোহীদের নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে।
এখন পর্যন্ত ডুবোযানটির খোঁজ পাওয়া যায়নি; ৫ আরোহী কী অবস্থায় আছেন, তাও অজানা। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে যত সময় পেরিয়েছে, তাতে টাইটানে থাকা অক্সিজেন শেষ হওয়ার পথে, উদ্ধারকর্মীদের তাই দিতে হচ্ছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা।
অবশ্য এই অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়াই আরোহীদের একমাত্র বিপদ নয় বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন নিউফাউন্ডল্যান্ডের মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি ইন সেইন্ট জনসের হাইপারবারিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. কেন লেডেজ।
টাইটানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে; যানটির ভেতর অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এই বিদ্যুতের ভূমিকা আছে বলেই মনে হচ্ছে।
অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করলে, আরোহীদের শ্বাস-প্রশ্বাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়তে থাকবে, এক পর্যায়ে যা বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
“কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়তে বাড়তে এটা একসময় ঘুমের ওষুধে পরিণত হবে, পরিণত হবে চেতনানাশক গ্যাসে, এবং আপনি ঘুমিয়ে পড়বেন,” বলেছেন লেডেজ।
কোনো ব্যক্তির রক্তপ্রবাহে কার্বন ডাই অক্সাইড বেশি হলে, চিকিৎসা না হলে তা মৃত্যুর কারণও হয়ে উঠতে পারে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সাবেক সাবমেরিন ক্যাপ্টেন রায়ান রামসে বলেছেন, তিনি অনলাইনে টাইটানের অভ্যন্তরের অনেক ভিডিও দেখেছেন এবং সেগুলোর কোনোটিতেই স্ক্রাবারস নামে পরিচিত কার্বন ডাই অক্সাইড সরিয়ে নেওয়ার কোনো পদ্ধতি দেখেননি।
“আমার কাছে সব সমস্যার মধ্যে এটাকেই সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।
এর পাশাপাশি আরোহীদের হাইথারমিয়ার ঝুঁকিও থাকছে, যেখানে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসে।
ক্যাপ্টেন রামসে বলছেন, টাইটান যদি সমুদ্রতলে থাকে, সেখানকার তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। এবার ডুবোযানটির যদি বিদ্যুৎও না থাকে, তাহলে সেটি কোনো শক্তি উৎপাদন করতে পারবে না, অর্থ্যাৎ তাপ উৎপন্ন করতে পারবে না।
হাইপোথারমিয়া, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং ভেতরে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার অর্থ হল ডুবোযানের গায়ে নিয়মিত বিরতিতে শব্দ করার মতো এমন কিছু করা আরোহীদের জন্য ক্রমশ দুরূহ হয়ে পড়বে, যা উদ্ধারকর্মীদের নজর কাড়বে।
“যদি তারা অচেতন হয়ে পড়ে, তাহলে তারা নিজেদের সহায়তায় কিছু করতে পারবে না,” বলেছেন ড. লেডেজ।
ডুবোযানটিতে এখন সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন আছে বলে কোস্ট গার্ড সতর্ক করলেও, আরোহীরা হয়তো কিছু সময়ের জন্য তাদের অক্সিজেন সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।
শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি ধীর করে আনলে অক্সিজেন আরও বেশি সময় ধরে রাখা সম্ভব, তবে এই চাপের মুহূর্তে এমন কিছু করাটা যে খুবই কঠিন রামসে তা স্বীকার করে নিচ্ছেন।
আরোহীরা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণকারী দানা ছড়িয়ে দিতে পারে কিংবা বিদ্যুৎ থাকলে তার ব্যবহারও সীমিত করে আনতে পারে, বলেছেন লেডেজ।
অনেকে আরোহীদের কাছে কী পরিমাণ খাবার ও পানি আছে, তা নিয়েও চিন্তিত। টাইটানের ক্রুদের কাছে ‘সীমিত রেশন’ আছে জানালেও কোস্ট গার্ড তার পরিমাণ বলেনি।
এত সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সহসা উদ্ধার অভিযান বাতিলে নারাজ ড. লেডেজ। তিনি বলছেন, অক্সিজেনের মাত্রা খুব কমে গেলেও আরোহীরা বেঁচে যেতে পারেন।
“যদি কেউ বাঁচতে পারে, তাহলে এরাই তারা। এটা নির্ভর করছে তাদের কাছে বিদ্যুৎ আছে কিনা, দরকারি জিনিস খুঁজে নেওয়ার মতো আলো আছে কিনা, এসবের ওপর। কিন্তু অবশ্যই, তারা এখনও বেঁচে থাকতে পারেন,” বলেছেন তিনি।