Published : 18 Sep 2025, 10:20 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ গড়ার প্রশংসা করেছেন।
সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, “আমরা নতুন এক অধ্যায়ের জন্য বিশেষ সম্পর্ককে নতুন করে গড়েছি।”
আজকের এই অংশীদারিত্ব দুইদেশের একসঙ্গে দৌড়ে জেতার সংকল্পেরই লক্ষণ, যা কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাস্তব সুবিধা বয়ে আনা নিশ্চিত করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দুই দেশের ঘনিষ্ঠতার বর্ণনা দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের প্রশংসা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম বাণিজ্য চুক্তি করার সফলতার জন্য স্টারমারকে দক্ষ একজন আলোচক বলে প্রশংসা করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা চিরদিনই একসঙ্গে ছিলাম, আমরা চিরকালের বন্ধু এবং সবসময়ই বন্ধু থাকব।”
বৃহস্পতিবার নেতারা জানান, প্রযুক্তি থেকে জ্বালানি খাতে দুই দেশের মোট ২৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি এই সম্পর্ককে “অটুট” করে তুলেছে।
স্টারমারের কান্ট্রি রেসিডেন্স চেকার্সে এক ব্যবসায়িক সংবর্ধনার শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের স্বাগত জানান তারা।
এ সময় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প ও স্টারমার। এটি ট্রাম্পের নজিরবিহীন দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফরের ছিল দ্বিতীয় দিন।
একদিন আগেই উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজা চার্লসের দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেন তিনি, যাকে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। চেকার্সের লনে পাশাপাশি বসে স্টারমার ও ট্রাম্প ১৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের মার্কিন বিনিয়োগ উন্মোচন করেন, যা বৃহত্তর ২৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের প্যাকেজের অংশ।
ট্রাম্পের প্রশংসা: ‘অটুট বন্ধন’
“আজ আমাদের বিশেষ সম্পর্কের জন্য দারুণ একটি দিন,” বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক নেতাদের ধন্যবাদ জানান।
স্টারমার বলেন, “এটি শুধু অতীত উদযাপন নয়, বরং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও চুক্তি তৈরির মুহূর্ত, যা মানুষের জীবনকে বদলে দেবে এবং বহু বছর ধরে এই বিশেষ সম্পর্ককে আলোকিত করবে।”
ট্রাম্প সমানভাবে উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের সম্পর্ক অমূল্য। আমরা এমন কিছু করেছি যা অর্থনৈতিকভাবে দুই দেশের জন্যই দারুণ… আমি মনে করি এটি অটুট বন্ধন।”
স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ টানতে যুক্তরাজ্যকে আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরছেন। আর্থিক খাত, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজি আনার মাধ্যমে অবকাঠামো শক্তিশালী ও অর্থনীতি সম্প্রসারণের লক্ষ্য তার।
নতুন চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া ও ওপেনএআই-এর সঙ্গে ৩১ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রযুক্তি চুক্তি এবং ব্ল্যাকস্টোনের ১০০ বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগ।
চ্যালেঞ্জিং সংবাদ সম্মেলন
বৃহস্পতিবার চেকার্সে ব্যাগপাইপের সুরে স্ত্রী ভিক্টোরিয়াকে পাশে নিয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান স্টারমার। তবে সন্ধ্যায় দুই নেতার এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সাংবাদিকরা কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া পিটার ম্যান্ডেলসনকে এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বরখাস্ত করতে বাধ্য হন স্টারমার। অন্যদিকে, ট্রাম্পেরও প্রয়াত এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্রিটিশ ফরেন পলিসি গ্রুপের পরিচালক ইভি অ্যাসপিনালের মতে, “স্টারমারের এখন ঘরে বাইরে কঠিন সময় যাচ্ছে, তাই আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া তার জন্য জরুরি। ট্রাম্পও স্টারমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখাতে চান।”
স্টারমার আশা করছেন, রাষ্ট্রীয় ভোজে ট্রাম্পের পাওয়া সম্মান তাকে সংবেদনশীল বিষয়গুলো—যেমন অনলাইন নিরাপত্তা আইন বা ব্রিটেনের ইসরায়েল নীতি—নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখবে।
পররাষ্ট্রনীতি এজেন্ডা:
স্টারমার আলোচনার ফোকাস ঘোরাতে চান পররাষ্ট্রনীতিতে, বিশেষত ইউক্রেইন ও গাজা প্রসঙ্গে।
রাশিয়াকে “আগ্রাসী” আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি ইউরোপকে খুশি করলেও তিনি জোর দিচ্ছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর রাশিয়ার তেল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করার ওপর, তবেই তিনি মস্কোর ওপর বাড়তি নিষেধাজ্ঞা দেবেন।
একই সঙ্গে ইউরোপের কিছু দেশের ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেছেন, এটি “হামাসকে পুরস্কৃত করার” সমান। যদিও স্টারমারের অবস্থান নিয়ে তিনি আপত্তি করেননি।
বিশ্লেষক অ্যাসপিনালের মতে, “ইউক্রেইন ও ফিলিস্তিন—এই দুই ভূরাজনৈতিক বিষয়ই আলোচনায় টানাপোড়েন তৈরি করবে। কিছু বিব্রতকর মুহূর্ত আসবেই।”