Published : 13 Jul 2025, 12:29 PM
পার্লামেন্ট বিধিনিষেধ আরোপ করলেও জাতিসংঘের পারমাণবিক ওয়াচডগ আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) সহযোগিতা করার পরিকল্পনা ইরানের আছে বলে মন্তব্য করেছেন শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির প্রসঙ্গও তিনি জোরের সঙ্গে তুলেছেন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গত মাসের হামলার পর ইরানে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ পরিষদ সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অনুমতি না দিলে আইএইএ তাদের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারবে না।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলার প্রধান নিশানাই ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশগুলো সন্দেহ করে আসছে। তবে ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি ‘পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ’।
ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হলে, সেখানে তেহরান যেন আইএইএ-কে সহযোগিতা করে সে শর্ত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
গত মাসে ইসরায়েলি হামলার প্রাক্কালে আইএইএ ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির শর্ত ভাঙার অভিযোগ এনেছিল, যা তেল আবিবের হামলার পথ প্রশস্ত করে বলে সন্দেহ তেহরানের। দেশটির অনেকেই জাতিসংঘের এ সংস্থাকে ইসরায়েল ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের সহযোগী হিসেবে দেখছেন।
“তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং পড়ে থাকা গোলা বা বোমার বিস্ফোরণের আশঙ্কা, দুই-ই গুরুতর। আমাদের জন্য, পারমাণবিক স্থাপনার কাছে আইএইএ পরিদর্শকদের নিয়ে যাওয়া একদিকে যেমন নিরাপত্তার বিষয়, অন্যদিকে তাদের নিজেদের সুরক্ষার বিষয়ও আছে, দুটি দিকই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন,” আরগচি এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
তেহরানে থাকা কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে ইরানি এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা জাতিসংঘের পারমাণবিক ওয়াচডগকে সহযোগিতা বন্ধ করেননি। তবে এখন থেকে এটি নতুন রূপে- সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় হবে।
“পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার আইএইএ-র প্রত্যেকটি অনুরোধের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদাভাবে সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দিক বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে,” বলেছেন তিনি।
আরাগচি জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না দিলে ইরান কোনো পরমাণু চুক্তিতেই রাজি হবে না। তেহরান কেবল তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা নিয়ে কথাবার্তায় রাজি হতে পারে, এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হবে না।
শনিবার একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বলেছিল, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকবে, এমন চুক্তির পক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মত রয়েছে।
ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ‘এ বিষয়ে অবগত সূত্রের’ বরাত দিয়ে বলেছে, পুতিন ইরানের কাছে এ ধরনের কোনো বার্তা পাঠাননি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে আরাগচি বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনার খুঁটিনাটি সতর্কভাবে পর্যালোচনা করছে এবং ওয়াশিংটন ফের সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটবে না এমন নিশ্চয়তা চাইছে।
“বিচার-বিবেচনা ছাড়া আলোচনায় ঢোকার তাড়া আমাদের নেই,” বলেছেন তিনি।
আগের পরমাণু চুক্তির আওতায় কথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ কৌশলের মাধ্যমে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি যদি ইরানের ওপর ফের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো পদক্ষেপ নেয় তাহলে তা ইরানের পরমাণু ইস্যুতে ‘ইউরোপের ভূমিকার ইতি টানবে’, বলেছেন তিনি।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিকে অনুমোদন দেওয়া জাতিসংঘের প্রস্তাবের শর্ত অনুযায়ী, ইউরোপের এ তিন শক্তিধর দেশ চাইলে এ বছরের ১৮ অক্টোবরের মধ্যে তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে পারবে।
আইএইএ-কে দ্বিমুখী নীতি বন্ধ করতে বলল ইরান
আইএইএ-কে সহযোগিতা স্থগিতের আইন কার্যকর হল ইরানে
আইএইএ-র সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা স্থগিত 'অগ্রহণযোগ্য', বলছে যুক্তরাষ্ট্র