Published : 06 Jul 2025, 06:52 PM
সমুদ্রে চীনের আধিপত্যে ঠেকাতে জাপান ফিলিপিন্সের কাছে নিজেদের ব্যবহৃত যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইয়োমিউরি।
রোববারের প্রতিবেদনে তারা বলেছে, বেইজিংকে মোকাবেলায় দুই মার্কিন মিত্র দেশ নিজেদের মধ্যে সহায়তা বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার অংশ হিসেবেই এ ডেস্ট্রয়ারগুলো যাচ্ছে।
জাপানের আবুকুমা-শ্রেণির ছয়টি ডেস্ট্রয়ার রপ্তানির পরিকল্পনা করছে, এগুলো তিন দশকের বেশি সময় ধরে তাদের মেরিটাইম সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্সকে সঙ্গ দিচ্ছিল, একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানি দৈনিকটি এ খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত মাসে সিঙ্গাপুরে দুই দেশের দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল নাকাতানি ও গিলবার্দো থিওডোরোর মধ্যে হওয়া বৈঠকে যুদ্ধজাহাজ রপ্তানির এ সিদ্ধান্ত হয়; চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি গ্রীষ্মেই ফিলিপিন্সের সামরিক বাহিনী এ ডেস্ট্রয়ারগুলো পরিদর্শন করতে যাচ্ছে, বলেছে ইয়োমিউরি।
এ প্রসঙ্গে রয়টার্স মন্তব্য চাইলেও জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিছু বলতে রাজি হননি। ফিলিপিন্স সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সাড়া মেলেনি।
টোকিও ও ম্যানিলা বলছে, সমুদ্রে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে তারা নানান প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে। ফিলিপিন্সকে দক্ষিণ চীন সাগরে, আর জাপানকে পূর্ব চীন সাগরে চীনের চোখ রাঙানি মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুই দেশ যৌথ মহড়া, জাপানের দেওয়া রাডার সহায়তা প্যাকেজ ও উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সংলাপে অংশ নিয়েছে। গত বছর তারা একে অপরের সঙ্গে ‘পারস্পরিক প্রবেশাধিকার চুক্তিও’ করেছে, যার মাধ্যমে দুই দেশের বাহিনী একে অপরের ভূখণ্ডে মোতায়েন হতে পারবে।
এশিয়ায় জাপান প্রথম এমন কোনো চুক্তি করল।
দেশটির শান্তিবাদী নীতির আওতায় যুদ্ধজাহাজ রপ্তানিতে থাকা বিধিনিষেধ এড়াতে টোকিও ম্যানিলার চাওয়া সরঞ্জাম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনকে একটি যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করবে, জানিয়েছে ইয়োমিউরি।
আবুকুমা-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারগুলো অন্য ডেস্ট্রয়ারের তুলনায় ছোট, একে পরিচালনায় ১২০ জনের মতো ক্রু লাগে। এই যুদ্ধজাহাজগুলোতে ডুবোজাহাজ ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডোর নল ও বন্দুক থাকে বলে জাপানের নৌবাহিনীর ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে।
ফিলিপিন্স নৌবাহিনীর কোনো ডেস্ট্রয়ার নেই, কেবল ফ্রিগেট ও কর্ভেট আছে। হালকা অস্ত্রে সজ্জিত এ নৌযানগুলো ডেস্ট্রয়ার থেকে বেশ ছোট।