Published : 20 Sep 2025, 04:37 PM
প্রায় আট মাস তালেবানের হাতে বন্দি থাকার পর কাতারের মধ্যস্থতায় মুক্তি পেয়েছেন দুই ব্রিটিশ নাগরিক পিটার ও বার্বি রেনল্ডস।
শুক্রবার সকালে মুক্তি পাওয়ার পর তাদেরকে দোহায় নিয়ে যাওয় হয়। সেখানে মেয়ে সারা এনটউইসলের দেখাও পেয়েছেন তারা। প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেকআপ শেষে এ দুই ব্রিটিশ-আফগান যুক্তরাজ্যে রওনা হবেন।
বিবিসি লিখেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান ছাড়ার সময় আটক হন দীর্ঘদিন ধরে বামিয়ান প্রদেশে বসবাস করা ৮০ বছর বয়সী পিটার ও ৭৬ বছরের বার্বি। প্রায় দুই দশক আফগানিস্তানে বসবাসের পর ওইদিন দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা।
তালেবান বলছে, এ দম্পতি আফগান আইন ভেঙেছিলেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষেই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তারা কী আইন ভেঙেছিলেন কিংবা তাদেরকে আটকের কারণই বা কী ছিল, তা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
দোহায় অবতরণের পর কাতার ও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ দেন পিটার ও বার্বি।
সেখানে তারা মেয়ের আলিঙ্গনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
“এখানে আসতে পারাটা অসাধারণ। আমরা আফগান নাগরিক এবং সুযোগ পেলে আবার ফিরতে চাই,” প্যারিসভিত্তিক এক বার্তা সংস্থাকে বলেন বার্বি।
আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে ‘ভালো আচরণ’ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই মুক্তিকে ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত খবর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি এ দম্পতির চার সন্তানের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।
স্টারমার ব্রিটিশ দম্পতিকে মুক্ত করতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন।
রেনল্ডস পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ‘কৃতজ্ঞ ও আপ্লুত’।
“আজ আমাদের জন্য অপরিসীম আনন্দের দিন। বাবা-মা সুস্থ হয়ে আবার পরিবারে ফিরতে পারছেন। যদিও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনেকটা সময় লেগে যাবে। তবুও আজকে তাদের মুক্তির খবর অসাধারণ স্বস্তি দিয়েছে,” বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
১৯৭০ সালে কাবুলে বিয়ে করেছিলেন পিটার ও বার্বি। গত ১৮ বছর ধরে তারা একটি প্রশিক্ষণমূলক দাতব্য প্রকল্প চালাচ্ছিলেন, যা ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পরও অনুমোদিত ছিল। কট্টরপন্থি মুসলিম এ গোষ্ঠীটি ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর অন্য অনেক পশ্চিমা নাগরিক চলে গেলেও তারা আফগানিস্তানেই থেকে যান।
আটক অবস্থায় পিটার ও বার্বির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল বলে দাবি করেছিল তার পরিবার।
ছেলে জোনাথন রেনল্ডস জুলাইয়ে বলেছিলেন, তার বাবা খিঁচুনিতে আক্রান্ত, আর মা রক্ত স্বল্পতা ও অপুষ্টিজনিত সমস্যায়।
তাদের দু’জনকে একসময় টানা ছয় সপ্তাহ জানালাবিহীন বেজমেন্টে রাখা হয়েছিল বলেও রেনল্ডসের দাবি।
জাতিসংঘ কিছুদিন আগেই সতর্ক করে বলেছিল, সঠিক চিকিৎসা না পেলে এই দম্পতির ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হয়ে যেতে পারে।
তাদের সঙ্গে আটক এক মার্কিন নারী ছয় দিন আগে মুক্তি পেয়ে বিবিসিকে বলেছিলেন, “রেনল্ডস দম্পতি আক্ষরিক অর্থেই কারাগারে পচে মরছেন। সময় ফুরিয়ে আসছে।”
কাতারের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনার শেষ পর্যায়ে রেনল্ডস দম্পতিকে কাবুলের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে উন্নত পরিবেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কাতারের দূতাবাস তাদের ওষুধ, চিকিৎসক ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে।
বন্দি অবস্থায় তাদের চিকিৎসা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তালেবান।
যুক্তরাজ্য তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, কাবুলে দূতাবাসও বন্ধ রেখেছে। তাই আফগানিস্তানে ব্রিটিশ নাগরিদের সহায়তা ‘খুবই সীমিত’, এবং নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে, বলেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তালেবান জানায়, তারা রেনল্ডস দম্পতিকে আফগানিস্তানে যুক্তরাজ্যের বিশেষ দূত রিচার্ড লিন্ডসির কাছে হস্তান্তর করেছে। ওই দম্পতির সঙ্গে তিনিও কাতারগামী বিমানে ছিলেন।