প্রতারণার চেষ্টা করিনি: সাবেক এফটিএক্স প্রধান

ক্যারাবীয় দেশ বাহামা দ্বীপপুঞ্জ থেকে কথা বলার সময় নিজের কাছে কেবল একটি ক্রেডিট কার্ড থাকার দাবি করেন ফ্রিড, যেটিতে দেনা প্রায় এক লাখ ডলার।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2022, 11:20 AM
Updated : 3 Dec 2022, 11:20 AM

এফটিএক্স ধসের পেছনে প্রতারণা সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নাকচ করেছেন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জটির সাবেক প্রধান স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিড।

‘ক্রিপ্টো কিং’ হিসেবে এক সময় পরিচিত ফ্রিড এই ধসের পর প্রথম জনসম্মুখে এসে মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি বেশ ‘বাজে একটি মাস’ কাটিয়েছেন ও তার প্রায় সব অর্থই শেষ হয়ে গেছে।

তিন হাজার দুইশ কোটি ডলার পর্যন্ত উঠেছিল এফটিএক্স-এর বাজারমূল্য। গত মাসে ব্যপক ধসের মুখে পড়ে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে কোম্পানিটি। এর পর থেকেই নিজেদের অর্থ তুলতে পারছেন না এতে বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগ।

৩০ বছর বয়সী ব্যাংকম্যান-ফ্রিড আরও বলেন, জনসম্মুখে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছেন তার আইনজীবিরা। তবে, তিনি সেগুলো মানেননি।

তার কাছে এখন ‘প্রায় কিছুই নেই’, এমন দাবি করে এফটিএক্স থেকে ব্যক্তিগত খরচের উদ্দেশ্যে অর্থ পাচারের অভিযোগও নাকচ করেন তিনি।

ক্যারাবীয় দেশ বাহামা দ্বীপপুঞ্জ থেকে কথা বলার সময় নিজের কাছে কেবল একটি ক্রেডিট কার্ড থাকার দাবি করেন ফ্রিড, যেটিতে দেনা প্রায় এক লাখ ডলার।

“আমি কখনোই প্রতারণার চেষ্টা করিনি।” --সাক্ষাৎকারে বিনিয়োগকারীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত না করার দাবি করেন ফ্রিড।

ফ্রিড মালিকানাধীন ট্রেডিং কোম্পানি ‘আলামেডা রিসার্চ’সহ এফটিএক্স ও অন্যান্য জায়গায় বেশ কয়েকবার অর্থ পাচার সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলে, এর বিবরণ দিতে গিয়ে তার বক্তব্য মাঝে মাঝে ত্রুটিপূর্ণ মনে হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য কোম্পানি যেখানে কেবল প্রচারণার স্বার্থে বিভিন্ন পরিবেশগত প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়, সেখানে তার কোম্পানি আগে থেকেই ‘গ্রিনওয়াশিং’ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

এক সময় ব্যাংকম্যান-ফ্রিডকে দেখা হতো কিংবদন্তি মার্কিন ব্যবসায়ী ওয়ারেন বাফেটের ‘কনিষ্ঠ সংস্করণ’ হিসেবে। এমনকি, অক্টোবরেও তার নেটমূল্য ছিল দেড় হাজার কোটি ডলার।

একটি এক্সচেঞ্জে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন ব্যবস্থা সামলানোর মতো প্রয়োজনীয় তারল্যের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি বলে ওই সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন ফ্রিড।

এর আগে থেকেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে লড়াই করে আসছিল অনেক ক্রিপ্টো কোম্পানি। এ ছাড়া, বিভিন্ন ক্রিপ্টো মুদ্রার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও বড় একটি প্রশ্ন।

১১ নভেম্বর ব্যাংকম্যান-ফ্রিড সিইও’র পদ থেকে সরে আসার পরপরই নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে এফটিএক্স।

পরবর্তীতে, কোম্পানি অধিগ্রহনের মাধ্যমে এফটিএক্স-কে বাঁচাতে রাজী হয়েছিল বাইন্যান্স। তবে, এর একদিন পরই চুক্তি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় তারা। পাশাপাশি, এর পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে কোম্পানিটি।

এই মাসের শুরুতে আদালত জমা দেওয়া এক নথি অনুযায়ী, এখন এফটিএক্স-এর কাছে ৫০ শীর্ষ ঋণদাতার পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় তিনশ ১০ কোটি ডলার।

রাজনৈতিক দলে চাঁদা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-তে পরিচিত হয়ে ওঠেন ফ্রিড। এর সঙ্গে ছিল মহামারী প্রতিরোধে সম্ভাব্য সমর্থন ও উন্নত ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উদ্ভাবনের বিষয়।

টাইমসের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্বীকার করেন, ওয়াশিংটনে তার বেশিরভাগ কার্যক্রমই ছিল ‘নিজের প্রচারণার’ জন্য।

ফ্রিড আরও বলেন, সম্ভাব্য অপরাধী বা দেওয়ানী অভিযোগ নিয়ে আপাতত  তিনি চিন্তিত নন।

“নিজের ও নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবার মতো সময় ও জায়গা আছে আমার।” --বলেন তিনি।

“এটাই শেষ বলে আমি মনে করি না।”

ওই সাক্ষাৎকারে ফ্রিডের জবাবগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি কখনও মিথ্যা বলেছি বলে আমার মনে পড়ে না।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক