Published : 07 Jun 2026, 07:58 PM
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের চলমান সংঘাত ও শান্তি আলোচনায় দরকষাকষিতে লেবাননকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন লেবানিজ প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আউন বলেন, লেবাননকে সংঘাত থেকে বাঁচাতে যা কিছু করা দরকার তা করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, “ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর (ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি) দীর্ঘস্থায়ী এ যুদ্ধে লেবাননের জনগণ এখন অতিষ্ঠ। আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই। শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে বাস করা লেবাননের জনগণের প্রাপ্য। প্রতি ৫ থেকে ১০ বছরে তাদের নিজেদের বাড়িঘর ধ্বংস হতে দেখার কথা নয়।”
ইরানকে উদ্দেশ করে জোসেফ আউন বলেন, “আপনারা আমাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছেন না, বরং আপনাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য লেবাননের মানুষ মূল্য দিচ্ছে।”
হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করে জোসেফ আউন বলেন, “এটা আপনাদের দেশ নয়, এটা আমাদের দেশ। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় লেবাননকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।”
ইরান লেবাননের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্সে এক পোস্টে বলেন, লেবানন যদি ইরানের দরকষাকষির হাতিয়ারই হত, তবে অনেক আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হত। ইসরায়েলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “লেবাননকে আপনাদের আসল শত্রুর হাত থেকে বাঁচান।”
গত এপ্রিলে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ থামেনি। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যে কোনও শান্তি চুক্তির জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
ওদিকে, ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানিজ ও ইসরায়েলের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা করা হলেও গত ৪ জুন হিজবুল্লাহ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তির মূল শর্ত ছিল হিজবুল্লাহকে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং তাদের যোদ্ধাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেন, ওয়াশিংটনের চুক্তিটি লেবাননের জনগণের একটি বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করেছে। কাসেমের এ দাবির জবাবে প্রেসিডেন্ট আউন সরাসরি বলেন, লেবাননের সাধারণ মানুষ হিজবুল্লাহর লোক না।