Published : 01 Jul 2023, 03:02 PM
প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্য নিয়ে দিন শেষ করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল।
শুক্রবারের লেনদেন শেষে এই কৃতিত্ব অর্জন করে অ্যাপল। মুদ্রাস্ফীতি থেকে বেরোনোর লক্ষণ যখন দেখা যাচ্ছে, তখনই আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি সফলভাবে নতুন বাজারের বিস্তার ঘটাবে, এমন সম্ভাবনাকে এই উত্থানের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।
বাজার বিশ্লেষক কোম্পানি ‘রিফিনিটিভ’- এর তথ্য অনুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য দুই দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে ১৯৩ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছানোর পর এর সামগ্রিক বাজার মূল্য গিয়ে ঠেকেছে ৩.০৫ ট্রিলিয়নে।
টানা চতুর্থবারের মতো নিজেদের রেকর্ড ভাঙল অ্যাপল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কুপারটিনো শহরভিত্তিক কোম্পানিটি ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি অল্প সময়ের জন্য তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য ছাড়ালেও ওই লক্ষ্যমাত্রার কিছুটা নিচে থেকে দিন শেষ করেছিল।
শেয়ারমূল্য বৃদ্ধিতে ‘হেভিওয়েট’ হিসেবে বিবেচিত অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলার পাশাপাশি অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারমূল্যও ব্যাপক হারে বেড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভোক্তা খরচ সংশ্লিষ্ট সূচকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে ভোক্তাদের খরচ তেমন বাড়েনি। আর একে ‘মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল রিজার্ভের চলমান লড়াইয়ের অগ্রগতি’ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।
২০২৩ সালে এখন পর্যন্ত অ্যাপলের শেয়ারমূল্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর সমন্বয়, ফেডারেল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হার বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট প্রচারণা সমাপ্তির দিকে যাওয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে বাজি ধরায় এমনটি ঘটেছে বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
অ্যাপলের সর্বশেষ প্রান্তিকের হিসাবে মে মাসে দেখা গেছে, কোম্পানির আয় ও লভ্যাংশ কমে এলেও তা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়াতে পেরেছে।
শেয়ার লেনদেন নিয়ে কোম্পানির ট্র্যাক রেকর্ড তুলনামূলক স্থির হওয়ায়, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে নিজেদের খ্যাতি ধরে রেখেছে অ্যাপল।
“এটা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ লেনদেন করা অন্যতম কোম্পানি হওয়ার প্রমাণ। আর নিজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানি বিভিন্ন বৈচিত্র্য নিয়ে আসছে, শেয়ারহোল্ডার-বান্ধব ব্যবস্থা রেখেছে, শেয়ার কেনাবেচা করছে। আর লভ্যাংশ থাকায় কোম্পানির শক্তিশালী, সুরক্ষিত ও ব্যালেন্স শিটও রয়েছে, যেখানে নির্ভরযোগ্য নগদ প্রবাহ দেখা যায়,”- বলেন আর্থিক পরামর্শক কোম্পানি ‘বি ডট রাইলি ওয়েলথ’- এর বাজার কৌশল প্রধান আর্ট হোগান।

অ্যাপল এই তিন ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করল ৫ জুন প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডলার দামের অগমেন্টেড রিয়ালিটি হেডসেট উন্মোচনের পর। আর দেড় দশকেরও বেশি আগে বাজারে আইফোন আনার পর থেকে কোম্পানির সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এটি।
জুনের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে কোম্পানির শেয়ারমূল্য বেড়েছে সাত শতাংশ। অন্যদিকে, ‘এস অ্যান্ড পি ৫০০’র সূচকে এই সংখ্যা চার শতাংশ।
অ্যাপলের শেয়ারে সাম্প্রতিক উত্থান বিশ্লেষকদের ‘কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয়’ সংশ্লিষ্ট প্রত্যাশাও ছাড়িয়ে গেছে।
অ্যাপল ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি কোম্পানির বাজারমূল্য ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও এনভিডিয়া ছাড়াও অ্যাপলের ঠিক পেছনে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে আছে মাইক্রোসফট।
এই বছর টেসলা ও মেটার শেয়ারমূল্য বেড়েছে দিগুণের বেশি। আর একশ ৯০ শতাংশ শেয়ারমূল্য বেড়ে যাওয়ার পর অভিজাত ‘ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাব’-এ প্রবেশ করেছে চিপ নির্মাতা মার্কিন কোম্পানি এনভিডিয়া।