বিজ্ঞাপনে ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের অবস্থান, ব্যবহারের সময় এবং মাত্রা, অন্যান্য অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করেছে ফেইসবুক এবং ওনাভো।
Published : 26 Jul 2023, 03:30 PM
গ্রাহককে না জানিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমে গোপনে গ্রাহকদের ডেটা সংগ্রহ করে সেগুলোকে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করার দায়ে ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটাকে এক কোটি ৪০ লাখ ডলার জরিমানা করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত।
সেইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালত বুধবার মেটার মালিকানাধীন ফেইসবুক ইজরায়েল এবং বর্তমানে বন্ধ থাকা ওনাভো অ্যাপকে আদেশ দিয়েছে মামলার বাদী অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতা এবং ভোক্তা কমিশনকে (এসিসিসি) মামলার ব্যয়বাবদ দুই লাখ ৭১ হাজার ডলার পরিশোধের।
২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে বিশ্লেষক কোম্পানি কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার মাধ্যমে গ্রাহকের ডেটা অপব্যবহারের মতো বড় ধরনের কেলেংলারির অভিযোগ রয়েছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। সেই তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার এই ঘটনাটি নতুন ভাবে যুক্ত হলো বলে মন্তব্য করেছে রয়টার্স।
অস্ট্রেলিয়ায় কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দেশটির তথ্য কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে একটি মামলা চলমান রয়েছে অস্ট্রেলয়ার আদালতে।
গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার কথা বলে ২০১৬ সালের শুরু থেকে ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ কোম্পানিটি ওনাভো নামের একটি ভিপিএন সার্ভিস প্রদান করে, বলা হয়েছে বুধবারের রায়ে। ভিপিএন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রকৃত অবস্থান বদলে ভিন্ন একটি অবস্থান দেখায়।
নিজেদের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের অবস্থান, ব্যবহারের সময় এবং মাত্রা, অন্যান্য অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে ফেইসবুক এবং ওনাভো —মামলার রায়ে লেখেন বিচারক ওয়েন্ডি আব্রাহাম।
"ডাউনলোডের আগে ওনাভো প্রোজেক্ট ডেটা কীভাবে ব্যবহার করবে— তার পর্যাপ্ত তথ্য প্রদান না করায় কয়েক লাখ অস্ট্রেলিয়ান ভোক্তারা তাদের ডেটার ব্যবহার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।” - রায়ে লিখেছেন বিচারক আব্রাহাম।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি মোট দুই লাখ ৭১ হাজার দুইশো ২০ বার ডাউনলোড করেছন, এবং প্রতিটিটির বেলায় ভোক্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আদালত প্রায় ১৬ লাখ ২১ হাজার ডলার করে করে জরিমান করলে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার জরিমানা গুণতে হতো, “কিন্তু আদালত পুরো অপরাধটিকে একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য করেছে” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উভয় পক্ষই এই জরিমানার পরিমাণ মেনে নিয়েছেন। রায়ে বিচারক আরও লেখেন- “দেখা গেল, জরিমানার অর্থ কোম্পানিটির কোনো গায়েই লাগলো না এবং তারা নির্দ্বিধায় ব্যবসা চালিয়ে গেলো ... তাই অর্থ দণ্ডের পরিমাণ যেন যথাযথ হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
গত বছর এক হাজার একশো ৬০ কোটি ডলার আয়কারী মেটা এক বিবৃতিতে বলেছে, “আদালত একমত যে, আমাদের কখনোই গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করার উদ্দেশ্য ছিলো না এবং গত কয়েকবছরে গ্রাহকদের ডেটার ওপর তাদের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা দিতে আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তি তৈরি করেছি।”
এ বিষয়ে এসিসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি, বলেছে রয়টার্স।