০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সাইবার প্রতারণা: এক বছরে ১৮০০ কোটি ডলার চুরি আমেরিকায়

সাইবার প্রতারণায় কত অর্থ হারিয়েছে, বিদেশ থেকে এ অর্থের কতটা জব্দ করা সম্ভব হয়েছে এবং তার কতটা ভুক্তভোগীরা ফেরত পেয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সংস্থার কাছে।

সাইবার প্রতারণা: এক বছরে ১৮০০ কোটি ডলার চুরি আমেরিকায়

অনলাইন প্রতারণা নতুন কোনো সমস্যা নয়। তবে সময়ের সঙ্গে এর ব্যাপ্তি বাড়ছে। ছবি: এআই ব্যবহার করে তৈরি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 05:45 PM

Updated : 02 Nov 2026, 06:07 PM

অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ১৮০০ কোটি ডলার হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। ঘণ্টায় এই ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ ডলারের বেশি। অথচ প্রতারণার শিকার মানুষের হারানো অর্থ উদ্ধারে দেশটির সরকারের উদ্যোগে রয়েছে সমন্বয়হীনতা। ফলে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের যৌথ অর্থনৈতিক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবার প্রতারণায় কত অর্থ হারিয়েছে, বিদেশে পরিচালিত প্রতারণার কেন্দ্রগুলো থেকে কত অর্থ জব্দ হয়েছে এবং তার কতটা ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সংস্থার কাছে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর ম্যাগি হাসান এবং ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধি ডন বেয়ারের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির মতো বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সেবা ব্যবহার করে পরিচালিত প্রতারণা শনাক্ত ও বন্ধে আগেভাগে উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করার কার্যকর ব্যবস্থাও নেই সরকারের। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

অনলাইন প্রতারণা নতুন কোনো সমস্যা নয়। তবে সময়ের সঙ্গে এর ব্যাপ্তি বাড়ছে। এফবিআইয়ের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা প্রায় ১৮০০ কোটি ডলার হারিয়েছেন অনলাইন প্রতারণায়। সব ধরনের ইন্টারনেট অপরাধের ক্ষতি ধরলে এর আকার ২০৯০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের তুলনায় এই ক্ষতি বেড়েছে ২৬ শতাংশ। আর ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

সমস্যার ব্যাপ্তি বাড়লেও অপরাধ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ একই গতিতে এগোচ্ছে না। কংগ্রেসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতারণায় হারানো অর্থের সামান্য অংশই উদ্ধার হচ্ছে। এমনকি অর্থ ফেরত দেওয়ার যেসব উদ্যোগ সরকারের রয়েছে, সেগুলোরও পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয় না।

এফবিআই কমিটিকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত দিয়েছে তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে জব্দ করা সম্পদ থেকে ৭৭ কোটি ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে এই অর্থের সবটাই সাইবার প্রতারণা থেকে উদ্ধার করা নয়। এর মধ্যে অন্যান্য ধরনের আর্থিক জালিয়াতির অর্থও রয়েছে।

জ্যাভলিন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড রিসার্চের প্রতারণাবিষয়ক বিশ্লেষক সুজান স্যান্ডো মনে করেন, সরকারি হিসাবের এই খণ্ডিত চিত্র সমস্যার প্রকৃত ব্যাপ্তি বুঝতে বাধা তৈরি করছে। বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন সময়সীমা ও ভিন্ন ধরনের অপরাধের হিসাব রাখে। ফলে সব তথ্য এক জায়গায় এনে পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্যান্ডো বলেন, “প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা যেসব দল ও সংস্থার কাছে তাদের ক্ষতির কথা জানান, তাদের অনেকেই আলাদা আলাদা ব্যবস্থায় কাজ করে। এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ক্ষতির প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায় না। এর অর্থ, সামগ্রিক প্রতারণার ক্ষতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা সম্ভবত প্রকৃত পরিস্থিতির চেয়ে কম।”

সমস্যা মোকাবিলায় নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে কংগ্রেসের প্রতিবেদন। এর মধ্যে রয়েছে ‘রিপোর্ট স্ক্যামস ডট গভ অ্যাক্ট’। দ্বিদলীয় এই বিলের সহপ্রস্তাবকদের একজন সিনেটর ম্যাগি হাসান। অন্যজন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট।

বিলটির লক্ষ্য হলো প্রতারণা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য একটি সমন্বিত কৌশল তৈরি করা। পাশাপাশি প্রতারণা সম্পর্কে তথ্য ও সহায়তা পেতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় জায়গা গড়ে তোলা।

একটি সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা থাকলে গবেষক ও ভুক্তভোগীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সমস্যার প্রকৃত ব্যাপ্তি ভালোভাবে বুঝতে পারবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষও সম্ভাব্য প্রতারণার ধরন সম্পর্কে জানতে পারবে। ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রতিরোধের কৌশল তৈরি করাও সহজ হবে।

এ ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঝুঁকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এফবিআইয়ের ২০২৫ সালের ইন্টারনেট অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিনিরা প্রায় ৭৭০ কোটি ডলার হারিয়েছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই ক্ষতি বেড়েছে ৬০ শতাংশ। সব বয়সী মানুষের মধ্যে এই গোষ্ঠীর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

একই বছরে ১৮ বছরের কম বয়সীদের বিরুদ্ধে ইন্টারনেট অপরাধের ১৩ হাজার ১৬৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব ঘটনায় তাদের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে।

তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, প্রতারণার শিকার অনেকেই লজ্জা, অন্যের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভয় কিংবা টাকা ফেরত পাওয়ার আশা নেই, এমন ধারণা থেকে অভিযোগ জানান না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উদ্যোগ আরও সমন্বিত হলে ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত হবেন। এতে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগও কার্যকর হতে পারে।

প্রতিবেদনে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে, যারা প্রতারণার কেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তা করে বা এসব কার্যক্রম চলতে দেয়। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই সমস্যা মোকাবিলায় সুপরিকল্পিত, সমন্বিত এবং পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবলসম্পন্ন উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনলাইন প্রতারণা বাড়াচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সাইবার প্রতারণার ব্যাপ্তি বাড়ার পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সুজান স্যান্ডো।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এবং ডিপফেইক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি। ডিপফেইকের মাধ্যমে ছবি, কণ্ঠস্বর কিংবা ভিডিও এমনভাবে তৈরি করা যায়, যাতে কাউকে এমন কিছু বলতে বা করতে দেখা যায়, যা তিনি বাস্তবে করেননি।

স্যান্ডো বলেন, “অপরাধীরা দীর্ঘ সময় ধরে কথোপকথন ও সম্পর্ক গড়ে তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নিতে এবং ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন অপরাধীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা কম সময়ে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও পরিপাটি বার্তা, ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং ডিপফেইক কণ্ঠস্বর ও ভিডিও তৈরি করতে পারে।”

তার মতে, প্রতারণার মূল কৌশলগুলো আগের মতোই রয়েছে। তবে অপরাধীদের হাতে এখন এমন উন্নত প্রযুক্তি এসেছে, যার সাহায্যে তারা দ্রুত মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে এবং একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালাতে পারে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার পলিসি ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জেক ব্রাউন বলেন, আগে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন না, তাদের অনেকেই এখন অনলাইনে সক্রিয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী আগের চেয়ে বেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আপনি এমন কিছু জনগোষ্ঠীকে দেখছেন, যারা আগে অনলাইনে ছিলেন না, কিন্তু এখন আছেন। আর অপরাধীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও কোনো শিশুর হাতে আইফোন থাকা এবং ফেইসবুক ব্যবহার করার বিষয়টি বাস্তবসম্মত ছিল না।”

একই সঙ্গে প্রযুক্তি মানুষের হাতে অর্থ লেনদেনের সহজ সুযোগও এনে দিয়েছে। ব্রাউন বলেন, “তাদের সবার ফোনেই এখন অ্যাপল পে রয়েছে।”

তার ব্যাখ্যা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের অনেকেই এসব প্রতারণা পরিচালনা করে। সেখানে বিভিন্ন প্রতারণাকেন্দ্রে পাচারের শিকার কর্মীদের আটকে রেখে জোর করে অনলাইনে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করানো হয়।

হারানো অর্থ ফেরত পাওয়া এত কঠিন কেন?

চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করা কঠিন হওয়ার অন্যতম কারণ, এসব অপরাধ একাধিক দেশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত। অথচ এই বিশাল সমস্যা মোকাবেলায় কাজ করছে অল্প কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। তাদের মধ্যেও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।

জেক ব্রাউনের মতে, এসব তদন্তে একসঙ্গে কয়েক ডজন দেশের লাখ লাখ ভুক্তভোগীর বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। আবার অধিকাংশ ঘটনায় প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম।

ব্রাউন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। কেউ একটি ব্যাংকে ডাকাতি করে একবারে ৩০ কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে না। এখানে কারও দাদির কাছ থেকে ১ হাজার ডলার, অন্য কারও কাছ থেকে ৫০০ ডলার করে নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে কয়েক বিলিয়ন ডলার। এমন সমস্যা মোকাবিলা করা সত্যিই কঠিন।”

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপ-জাতীয় সাইবার পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ব্রাউন। তার মতে, এ ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় কাজ করা শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র একশর মতো।

ফলে তাদের বড় অপরাধী চক্র ও মূল হোতাদের ধরার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হয়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলার চুরির ঘটনা তদন্ত করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও সময় তাদের হাতে থাকে না। কারণ, একই সময়ে তারা এমন অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে ধরার চেষ্টা করেন, যারা সম্মিলিতভাবে কয়েক বিলিয়ন ডলার চুরি করছে।

তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের কাজ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে আলাদা আলাদা ব্যবস্থায় পরিচালিত হলে দুটি সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমত, ভুক্তভোগীদের জন্য কোন সংস্থার কাছে যেতে হবে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাধাগ্রস্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসের যৌথ অর্থনৈতিক কমিটিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় তাদের ৬০ জন কর্মী বিদেশে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্র মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তাদের হাতে রয়েছে বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি।

নাগরিকদের সুরক্ষায় বাধা কোথায়?

সুজান স্যান্ডোর মতে, বেসরকারি খাতেও দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিয়ে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, “প্রতারণার ঘটনা একাধিক প্ল্যাটফর্মজুড়ে ঘটতে পারে। গ্রাহকদের সুরক্ষায় প্রতারণা প্রতিরোধ ও শনাক্ত করতে আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ একাধিক শিল্প খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

স্যান্ডোর মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে সরকার এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় করবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। প্রাসঙ্গিক তথ্য আদান-প্রদান, একই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা ও আর্থিক ক্ষতির হিসাব রাখা, ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধারের হার প্রকাশ এবং প্রতারণার কার্যকারিতা কমাতে কোন পদক্ষেপ কাজ করছে, তা চিহ্নিত করাও সরকারের দায়িত্বের মধ্যে থাকা উচিত।

বিশেষ করে ভুয়া বিজ্ঞাপন এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

জেক ব্রাউনও এ বিষয়ে একমত। তার মতে, প্রতারণার ঘটনা ঘটার আগেই তা ঠেকাতে এসব কোম্পানির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপগুলোর একটি।

ব্রাউন বলেন, “তাদের প্ল্যাটফর্মে কে কখন কী ক্লিক করছে, তার সব তথ্যই তাদের কাছে রয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম না থাকলে এই সমস্যার অস্তিত্বই থাকত না।”

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার ক্ষতি কীভাবে উদ্ধার করা যায়, সেই আলোচনায় অনেক সময় অপরাধ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব হারায়।

তিনি বলেন, “আমাদের ভাবতে হবে, ফেমার মাধ্যমে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলোকে দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা অনুদানে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সচেতনতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা যায় কি না। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বয়স্ক মানুষ, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং অভিবাসীরা রয়েছেন। আমরা অপরাধীদের ধরার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। অথচ আমাদের ভাবা উচিত, এই পরিস্থিতিতে কীভাবে বিশেষভাবে শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া যায়? কীভাবে বয়স্ক নাগরিকদের নিরাপদ রাখা যায়?”

প্রতারণার কারণে কোন জনগোষ্ঠী কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সে সম্পর্কে সরকারের স্পষ্ট ধারণা তৈরি হলে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। অর্থাৎ সবার জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা না নিয়ে ঝুঁকির ধরন বুঝে আলাদা সমাধান তৈরি করতে হবে।