২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গভীর সমুদ্রের তলদেশ কি হবে আগামী দিনের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র?

বিভিন্ন দেশের সরকার এখন সমুদ্রের তলদেশে বাড়তি নজরদারি, সেন্সর বসানো ও কেবল আরও গভীরে পুঁতে ফেলার মতো শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে।

গভীর সমুদ্রের তলদেশ কি হবে আগামী দিনের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র?

সমুদ্রের তলদেশে কার্যক্রম পরিচালনার এই উদীয়মান বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বড় ও ছোট উভয় ধরনের সংস্থাই এখন তৎপর। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 03:09 PM

Updated : 21 Sep 2026, 03:39 PM

ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেবল আকাশ বা ভূমিতেই আর সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে সমুদ্রের গভীর তলদেশেও। বিষয়টি এখন উপলব্ধি করছে বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ও শীর্ষ কোম্পানিগুলো।

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি লিখেছে, সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বয়ে চলা ইন্টারনেট সংযোগ কেবল ও জ্বালানি পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা বাড়ায় রাষ্ট্র ও কোম্পানিগুলো এখন পানির নিচে ব্যবহারের উপযোগী নতুন প্রযুক্তির পেছনে বিপুল অর্থ ও মনোযোগ বিনিয়োগ করছে।

সাইবার হামলা, জ্বালানি নাশকতা, অপতথ্য ও অর্থনৈতিক চাপের মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে গড়ে ওঠা ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’ বা সংকর যুদ্ধের ক্রমাগত আশঙ্কার মাধ্যেই এ পরিবর্তন আসছে। প্রচলিত সামরিক পদ্ধতির পাশাপাশি বা ছাড়াই এ ধরনের হুমকি ঠেকানোয় জোর দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের থিংক ট্যাংক ‘চ্যাথাম হাউস’-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো কাটিজা বেগো বলেছেন, “এ হুমকি পরিবেশের পরিবর্তনই বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।”

পাশাপাশি তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি পানির নিচে নজরদারির নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

‘অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেইকল’ বা এইউভি থেকে শুরু করে সাবসি বেবলের সঙ্গে সংযোগ সেন্সর পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করা এসব অবকাঠামো আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের উপায় খুঁজছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সামরিক জোট।

বেগো বলেছেন, “আমাদের পুরো অর্থনীতিই এগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।”

‘পরবর্তী যৌক্তিক ক্ষেত্র’

ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর কয়েক মাস পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাল্টিক সাগরের নিচে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।

তদন্তে প্রমাণ মেলে, রাশিয়া থেকে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য নির্মিত পাইপলাইনগুলোতে নাশকতা চালানো হয়েছিল।

বেগো বলেছেন, এ ঘটনার পাশাপাশি আর্কটিক ও তাইওয়ানের কাছাকাছি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও সমুদ্রের তলদেশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিভিন্ন ঘটনা স্নায়ুযুদ্ধের পরের দশকগুলোতে উপেক্ষিত থাকা বিভিন্ন দুর্বলতাকে নীতিনির্ধারকদের নজরে এনেছে।

“এটা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। ফলে এখন আমাদের অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়ার কাজ বাকি আছে।”

টেলিযোগাযোগ গবেষণা কোম্পানি ‘টেলিজিওগ্রাফি’র তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিশ্বে ১৫ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সাবমেরিন কেবল সচল রয়েছে।

টেলিযোগাযোগ কেবল ও তেল-গ্যাসের পাইপলাইনের পাশাপাশি সাবসি পাওয়ার কেবলের ক্রমাগত নেটওয়ার্ক এখন বিভিন্ন বিদ্যুৎ বাজারকে সংযুক্ত ও অফশোর সামুদ্রিক বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মূল ভূখণ্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের সময় আকাশপথে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দূর থেকে পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম কীভাবে যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে তা দেখিয়েছে।

সামুদ্রিক পরিবেশকে যুদ্ধের ‘পরবর্তী যৌক্তিক ক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বেগো। এ পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নির্মাতা বিভিন্ন কোম্পানিও এখন নতুন কৌশল নিয়েছে।

পানির নিচে ও উপরিভাগের ড্রোন, সামুদ্রিক জরিপ ও সাবসি যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়াতে ইতালীয় জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি ‘ফিনক্যান্টিয়েরি’ গেল জুলাইয়ে প্রায় ৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারে চারটি কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টনারশিপ কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী পিয়েররোবার্তো ফোলগেরিও বলেছেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের সাবমেরিন তৈরির দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিটি এখন ‘প্রচলিত পানির নিচে’ জগৎ থেকে ছোট সাবমেরিন, ড্রোন ও পানির নিচের টেলিযোগাযোগ সংবলিত ‘অপ্রচলিত’ জগতে প্রবেশ করছে।

জুলাইয়ে ফোলগেরিও পানির নিচের টেলিযোগাযোগকে ‘এই নতুন ইকোসিস্টেমের মূল সহায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

ভবিষ্যতে যুদ্ধজাহাজগুলো ‘মাদারশিপ’ বা মূল জাহাজের ভূমিকা রাখবে এবং সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে পুরো পানিস্তরে পরিচালিত বিভিন্ন যানের নেটওয়ার্ক সমন্বয় করবে বলে ধারণা ফোলগেরিওর।

এক্ষেত্রে ফিনক্যান্টিয়েরি একা নয়, ফ্রান্সের ‘থালেস’-এর মতো প্রধান প্রতিরক্ষা গোষ্ঠীগুলোও সোনাম, সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ, মাইন শনাক্তকরণ ও স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের সিস্টেমের মতো ব্যবসা বাড়াচ্ছে।

সমুদ্রের তলদেশে কার্যক্রম পরিচালনার এই উদীয়মান বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বড় ও ছোট উভয় ধরনের সংস্থাই এখন তৎপর।

স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন

ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেবল আকাশ বা সমুদ্রের উপরিভাগেই নয়, বরং সমুদ্রের তলদেশ সুরক্ষার লড়াইয়েও এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

এ সম্ভাবনাময় ও লাভজনক খাতে নজর দিয়ে জার্মানিভিত্তিক ডিফেন্স-টেক কোম্পানি ‘ইউরোঅ্যাটলাস’ তৈরি করেছে ‘গ্রে শার্ক’ নামের এক ‘অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেইকল’ বা স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান।

কোম্পানিটির চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পার্টনারশিপ অফিসার ভেরিনিয়া কোড্রিয়ান বলেছেন, ড্রোনটি মানুষের ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে নিজে থেকেই অভিযান পরিচালনা করবে।

এটা নিজে নিজেই যে কোনো বাধা এড়িয়ে চলতে ও কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়লে পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুসারে কাজ করবে।

কোনো পাইপলাইন পরিদর্শনের সময় তা যদি মাইন সদৃশ কোনো বস্তু শনাক্ত করে তবে সঙ্গে সঙ্গে তা রিপোর্ট এবং পরবর্তীতে কী করতে হবে সে বিষয়ে কোনো অপারেটরের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করবে।

যুদ্ধজাহাজ দিয়ে সমুদ্রের পাইপলাইন বা কেবলের প্রতিটি মাইল পাহারা দেওয়ার পরিবর্তে কোড্রিয়ান এমন এক ভবিষ্যতের কল্পনা করছেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় যানের বহরগুলো কৌশলগত এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল দেবে ও অস্বাভাবিক কিছু দেখলে এক হয়ে কাজ করবে।

Image

এআই, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি পানির নিচে নজরদারির নতুন পথ খুলে দিয়েছে। ছবি: ম্যাগনিফিক

“পুরো মহাসাগর কভার করা প্রায় অসম্ভব। আপনার কেবল জানা প্রয়োজন কোন এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা বেশি জরুরি।”

তার ভাষ্য, এটা পরিধি বা স্কেলের সমস্যা, কারণ বড় এলাকাজুড়ে বিস্তৃত কেবল, পাইপলাইন ও অন্যান্য কৌশলগত সম্পদের সুরক্ষায় ফ্রিগেট, সাবমেরিন ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মতো প্রচলিত ক্রুওয়ালা বিভিন্ন সম্পদ ব্যয়বহুল ও সংখ্যায়ও বেশ সীমিত।

“পানির নিচের ডোমেইনে এমন কিছু নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যা এর আগে ছিল না এবং গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাবোটাজ বা শত্রু সাবমেরিনের চলাচল রোধে এসব সমস্যার মুখে পড়া যে কোনো স্থানে মানবচালিত যান দিয়ে সবসময় পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।”

মেশিন বনাম মেশিন: ডুবো ড্রোনের দ্বৈরথ

স্বয়ংক্রিয় বিভিন্ন যান কেবল অবকাঠামো পর্যবেক্ষণের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে না, বরং প্রচলিত সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের পাশাপাশি এখন ‘অ্যান্টি-অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেইকল’ বা স্বয়ংক্রিয় যানবিরোধী মিশনেরও উদ্ভব ঘটছে।

অন্য দেশের পরিচালিত পানির নিচের বিভিন্ন চালকহীন যান শনাক্ত, ট্র্যাক ও চিহ্নিত করাই এসব মিশনের মূল লক্ষ্য।

কোড্রিয়ান বলেছেন, “আমরা যা তৈরি করছি, আমাদের শত্রু বা মিত্রহীন দেশগুলোও ঠিক একই জিনিস তৈরি করছে।”

যেহেতু অন্যদেরও এ ধরনের পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় যান রয়েছে ফলে কোনটি নেটো বা বন্ধুভাবাপন্ন দেশের আর কোনটি নয় তা শ্রেণিবদ্ধ করতে পারাও জরুরি। এর মাধ্যমেই সমুদ্রের তলদেশে ‘মেশিন বনাম মেশিন’ বা যন্ত্রে-যন্ত্রে তৎপরতা আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

কোড্রিয়ানের ধারণা, এসব স্বয়ংক্রিয় যান প্রচলিত সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে।

“আমি এমন কোনো চরম ধারণায় বিশ্বাসী নই যে কেবল ড্রোন বনাম ড্রোনই লড়াই করবে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী মানবচালিত যানের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়ার আগ পর্যন্ত ড্রোনের বিরুদ্ধে ড্রোনের কার্যক্রম বহুলাংশে বাড়বে।”

এর পরিবর্তে বিভিন্ন নৌবাহিনী মানবচালিত ও স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের সমন্বয় ঘটাবে বলেই মত কোড্রিয়ানের।

তিনি বলেছেন, যোগাযোগের ক্ষেত্রে পানির নিচের টেলিকমিউনিকেশনকে মূল সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখা হলেও অ্যাকোস্টিক ও পানির নিচের অন্যান্য যোগাযোগের অগ্রগতিতে মূল বাধা হচ্ছে ড্রোনের কাজের পরিসর ও সহনশীলতা।

এ সমস্যার সমাধানে হাইড্রোজেন ফুয়েল-সেলের তৈরি ‘গ্রে শার্ক’-এর একটি সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে ইউরোঅ্যাটলাস, যা পানির নিচে একটানা ১৬ সপ্তাহ বা ৮ হাজার নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত চলতে পারার মতো করে ডিজাইন করা হয়েছে। তবে পানির নিচে এ সহনশীলতা এখনও পুরোপুরি দেখানো হয়নি।

ইউরোঅ্যাটলাস বলেছে, নাম প্রকাশে রাজি নয় এমন ইউরোপীয় নৌবাহিনীগুলোর সঙ্গে গ্রে শার্ক সংক্রান্ত ১০ কোটিরও বেশি ইউরোর চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

কোড্রিয়ান বলেছেন, এসব ড্রোন কোনো অস্ত্রসজ্জিত নয়, বরং নজরদারি, শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক কাজের জন্যই এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।

বড় চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের রূপরেখা

বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির পরও সমুদ্রের তলদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক সমস্যা থেকেই গেছে, যেখানে কেউই বাস্তবসম্মতভাবে সমুদ্রতলের প্রতি মাইল অবকাঠামো রক্ষা করতে পারবে না।

‘চ্যাথাম হাউস’-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো বেগো বলেছেন, নেটোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথা শুনলেও কেউ দাবি করবে না যে ১০ লাখ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত এ নেটওয়ার্ক পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

এসব অবকাঠামো রক্ষার দায়িত্ব কার তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। বিশ্বের অধিকাংশ সাবসি অবকাঠামোর মালিকানা বা পরিচালনায় রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। যারা সাধারণত রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ ও দুর্ঘটনাবশত হওয়া ক্ষতিগুলোই দেখে আসছে।

তবে ইচ্ছাকৃত নাশকতা বা সরাসরি যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি থেকে এগুলোকে রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার ও সামরিক বাহিনীগুলোর অংশগ্রহণ ক্রমেই জরুরি হয়ে উঠছে।

বেগো বলেছেন, বিভিন্ন সরকার এখন বাড়তি নজরদারি, সেন্সর বসানো ও কেবল আরও গভীরে পুঁতে ফেলার মতো শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে। এসব পদক্ষেপ বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এর খরচ কে বহন করবে ও শেষ পর্যন্ত এর দায় কার ওপর বর্তাবে।

বেগো বলেছেন, এর ফলে কেবল নিয়মনীতি প্রণয়ন নয়, বরং সরকার ও অবকাঠামোর মালিকদের মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতার প্রয়োজন দেখা দেবে।

বিনিয়োগের এ সুযোগটি আটলান্টিকের উভয় পারের কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনও পানির নিচের এ ডোমেইনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে।

“এর কারণে স্পষ্টতই আরও বেশি অর্থ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ ড্রোন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে এক বড় ধস নেমেছে।”

আকাশে ড্রোন পরিচালনা করা সহজ হলেও পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা কঠিন। পানির নিচে দৃশ্যমানতা কম, যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন ও সিগনালও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না।

“এটা এমন কোনো প্রযুক্তি নয়, যা ইউক্রেইনে আমরা যে ধরনের ড্রোন দেখতে পাই তার কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। অগ্রগতি হচ্ছে, তবে বিষয়টি বেশ কঠিন ও প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বাধা সত্যিই বেশ উল্লেখযোগ্য।”

এ কারণে স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেইকল বা ড্রোনগুলোকে সমুদ্রের তলদেশ সম্পূর্ণ নিরাপদ করার মতো কোনো চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত সমাধান হিসেবে দেখতে নিষেধ করেছেন বেগো।

“এটা সহায়ক বটে, যা প্রতিরোধ ও সংকেত পাঠানোর কাজে লাগে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিকাশ ঘটানো ভালো। তবে কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, যা সবকিছু ঠিক করে দেবে।”