আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: মাস্কের গ্রক চ্যাটবট ব্যবহারে কড়াকড়ি
এআই সিস্টেমের তুলনায় এ ধরনের ব্যক্তিগত এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট চালাতে অতিরিক্ত মাত্রায় কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রয়োজন।
আয়ের চেয়ে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানির তৈরি গ্রক বটের ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে কোম্পানিটি।
মাস্কের রকেট নির্মাতা কোম্পানি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স ও এআই প্রকল্পের সম্মিলিত উদ্যোগ ‘স্পেসএক্সএসআই’ এ বছরের অগাস্টে গ্রক বটটি চালু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, ওই সময় টুলটিকে ‘বাস্তবভিত্তিক কাজের উপযোগী এআই সহযোগী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল মাস্কের কোম্পানি।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যক্তিগত এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির প্রতিযোগিতার মধ্যেই মেটার ‘মিউজ’ ও ওপেনএআইয়ের ‘ডটস’-এর পাশাপাশি গ্রক বট উন্মোচিত হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে সেবাটিতে নির্ধারিত সীমা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবহারে বাধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, এখন গ্রক বটের এআই এজেন্টগুলোর নাগাল তারা পাচ্ছেন না।
অন্যান্য এআই সিস্টেমের মতোই প্রতিটি গ্রক বট নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহারের সুযোগ মেলে, যা যে কোনো প্রশ্ন বা নির্দেশনার মাধ্যমে শেষ হয়।
ব্যবহারের সীমা পুনর্নির্ধারণ হতে চার দিন বাকি থাকতেই সপ্তাহের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন একজন ব্যবহারকারী।
এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ মাস্ক লিখেছে, বিনামূল্যে এই ব্যবস্থা চালু রাখা ব্যয়বহুল ও এটা থেকে পর্যাপ্ত আয় আসছে না।
“আয়ের তুলনায় গ্রক বটের সেবা চালু রাখার খরচ অসম্ভব রকমের বেশি।”
এআই সিস্টেমের তুলনায় এ ধরনের ব্যক্তিগত এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট চালাতে অতিরিক্ত মাত্রায় কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রয়োজন। কারণ এগুলো একাধিক সমন্বিত এআই সিস্টেমের একটি দলের মতো কাজ করতে ও জটিল সব নির্দেশ বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হয়।
এরপরও বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এসব এআই প্রযুক্তিকেই কর্মক্ষেত্র ও দৈনন্দিন জীবনের ভবিষ্যৎ হিসেবে তুলে ধরছে।
স্পেসএক্সএসআই, মেটা ও ওপেনএআইসহ এসব খাতের অনেক শীর্ষ কোম্পানিই তাদের এআই প্রকল্পে বড় অংকের আর্থিক লোকসান স্বীকার করছে।
বর্তমানে ব্যবহারকারী বেড়ে যাওয়া ও আরও জটিল সিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে এআই চালনার বিপুল ব্যয়কে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছে কোম্পানিগুলো।
এত বিপুল পরিচালনা ব্যয়ের মুখে ঠিক কীভাবে এসব এআই সরঞ্জাম চালু রাখা সম্ভব হবে ও সেখান থেকে টেকসই আয় আসবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
কোম্পানিগুলো অবশ্য আংশিক আয় ফেরাতে বিভিন্ন প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যেমন, স্পেসএক্সএসআইয়ের এআই টুলের পেইড সাবস্ক্রাইবারদের জন্যই কেবল গ্রক বট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওপেনএআই তাদের ‘ডটস’ সেবাটি কেবল উচ্চমূল্য পরিশোধ করা অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমিত রেখেছে। বিপরীতে মেটার ‘মিউজ’-এর মতো কিছু প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনো বিনামূল্যে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পেইড সাবস্ক্রিপশনই এখন এআই এজেন্টগুলোর বিপুল ব্যয়ের সামান্য অংশ তুলে আনার প্রধান উপায় হিসেবে কাজ করছে।
তবে মেটা তাদের ‘মিউজ’ সেবা থেকে বিকল্প উপায়ে আয়ের কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এজেন্টভিত্তিক এআই সহকারী চালুর পর প্রকাশ পাওয়া সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে তারা বলেছে, গ্রাহকরা কেনাকাটার কাজে টুলটি ব্যবহার করছেন, যা ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপনভিত্তিক আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
