নিরাপত্তা ত্রুটিতে বন্ধ হল মেটার ‘মিউজ’ চ্যাটিং শেয়ারের সুবিধা
এআই মডেলটিতে ব্যবহারকারীরা লিংক বা ইউআরএল তৈরির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে নিজেদের আলাপ শেয়ার করতে পারতেন।
মেটা তাদের নতুন এজেন্টিক এআই প্ল্যাটফর্ম মিউজ উন্মোচনের কেবল এক মাসের মাথায় এতে গোপন ও নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেছেন প্রযুক্তি গবেষকরা।
এআই মডেলটিতে ব্যবহারকারীরা লিংক বা ইউআরএল তৈরির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে নিজেদের চ্যাটিং শেয়ার করতে পারতেন।
গবেষকরা সেসব লিংকের মাধ্যমে যে কেউ যে কারও আলাপে প্রবেশের ঝুঁকি খুঁজে পাওয়ার পর মেটা ফিচারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এ ত্রুটিটি উন্মোচন করেছেন নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণাকারী কোম্পানি ‘ক্লারক’-এর গবেষকরা।
তারা বলছেন, ব্যবহারকারীদের শেয়ার করা মিউজ চ্যাটিং লিংকগুলো খুব সহজেই ‘প্যাসিভ ডিএনএস’ অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুঁজে বের করা সম্ভব ছিল।
এর মূল কারণ, শেয়ার করা সব ইউআরএলের ডোমেইন নাম একই রাখা হয়েছিল ও প্রতিটি আলাপের শিরোনাম সাবডোমেইনে ব্যবহৃত হয়েছিল।
ইন্টারনেটের ফোনবুক নামে পরিচিত প্যাসিভ ডিএনএস মানুষের পাঠযোগ্য ডোমেইন কীভাবে আইপি ঠিকানায় রূপান্তরিত হয় তার রেকর্ড সংরক্ষণ করে।
এ বিষয়ে ক্লারক ব্লগ পোস্টে বলেছে, “মিউজ প্রতিটি শেয়ার করা চ্যাটিংয়ের ওয়েব অ্যাড্রেস নির্ধারণ করত ওই আলাপের নির্দিষ্ট শিরোনাম দিয়ে। আর সেই ঠিকানাটি সরাসরি পাবলিক ডিএনএস-এ লিপিবদ্ধ হয়ে যেত।
“এতে কেবল একটি প্যাসিভ-ডিএনএস সার্চের মাধ্যমেই হাজার হাজার আলাপের শিরোনাম সূচিপত্রের মতো তালিকা আকারে সামনে চলে আসত।”
গবেষণা কোম্পানিটি মেটার এই সেবার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক উভয় ধরনের ব্যবহারের প্রায় ৬ হাজার ৮০০টি শেয়ার করা লিংক চিহ্নিত করতে পেরেছে এবং সেসব আলাপে থাকা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পায়।
অরক্ষিত থাকা তথ্যের মধ্যে ছিল ফ্রন্টিয়ার এআই ল্যাবের সঙ্গে বৈঠকের সময়সূচি, ছোট ব্যবসার ঋণের আবেদন, আংশিক অ্যাকাউন্টের বিবরণসহ ব্যাংকের জালিয়াতি সম্পর্কিত সতর্কবার্তা, এক কোম্পানি ছুটির ক্যালেন্ডার ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ গোপন নথি।
এ নিরাপত্তার ত্রুটি ও ক্লারক-এর গবেষণার খবর প্রথম প্রকাশ করে প্রযুক্তি সাইট ‘আর্স টেকনিকা’।
বিবৃতিতে মেটা প্রতিনিধি বলেছেন, "আমরা প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করছি এবং এসব লিংক কীভাবে শনাক্ত করা যায় সে বিষয়ে পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করছি। পর্যালোচনা চলাকালীন আমরা ফিচারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছি।”
মেটার এই আপডেটের পর ক্লারক বলেছে, তাদের গবেষকরা আগে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন এমন কিছু টেস্ট লিংক পুনরায় খোলার চেষ্টা করে আর তাতে প্রবেশ করতে পারেননি।
