Published : 12 Jul 2026, 11:44 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি ওপেনএআই এবং এর দুই কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপল। অ্যাপলেরর অভিযোগ, তাদের সাবেক কর্মীদের নিয়োগের মাধ্যমে অ্যাপলের পণ্য উন্নয়নসংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহের একটি পরিকল্পিত কৌশল অনুসরণ করেছে ওপেনএআই।
বিবিসি-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে করা মামলায় অ্যাপল ওপেনএআই, এর দুই কর্মী এবং অ্যাপলের সাবেক শীর্ষ নকশাবিদ জনি আইভ প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি আইও প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে।
অ্যাপলের দাবি, গোপন তথ্য চুরিতে এটি ওপেনএআই-এর ‘ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই’ অংশ।
মামলায় নথি অনুসাবে, অ্যাপলে দীর্ঘদিন কর্মরত অন্তত দুই কর্মী কোম্পানি ছেড়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে নিজেদের কাছে অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন তথ্য ই-মেইলে পাঠিয়েছিলেন।
ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি বিবিসিকে বলেছেন, অন্য কোনো কোম্পানির বাণিজ্যিক গোপন তথ্যের প্রতি তাদের “কোনো আগ্রহ নেই”।
তিনি আরও বলেন, কোম্পানিটি অ্যাপলের অভিযোগ পর্যালোচনা করছে এবং “বিশ্বজুড়ে মানুষের ক্ষমতায়নে সহায়ক উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তৈরিতেই” তাদের মনোযোগ।
অন্যদিকে অ্যাপলের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, এই মামলার পেছনে “অকাট্য প্রমাণ” রয়েছে।
এই মামলা অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অ্যাপলের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী টিম কুক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধা বাড়াতে কোম্পানিটির বিভিন্ন যন্ত্রে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি যুক্ত করেছিলেন। তবে চলতি বছর অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট আরও বেশি সুবিধা পেতে গুগলের জেমিনাই মডেল ও সংশ্লিষ্ট টুলের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে।
এ বছরের এপ্রিলে টিম কুক দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলে ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান তাকে “একজন কিংবদন্তি” বলে অভিহিত করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “তিনি যা করেছেন, তার সবকিছুর জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
কিন্তু এবার অ্যাপলের অভিযোগ, ওপেনএআই আড়ালে “অ্যাপলের গোপন তথ্য সংগ্রহের একটি কৌশল” বাস্তবায়ন করেছে।
মামলায় ওপেনএআইয়ের পাশাপাশি আইও প্রোডাক্টসকেও আসামি করা হয়েছে। অ্যাপলের দীর্ঘদিনের নকশা প্রধান জনি আইভ প্রতিষ্ঠিত এই স্টার্টআপটিকে গত বছর কিনে নিয়েছে ওপেনএআই।
এ ছাড়া আসামি করা হয়েছে চ্যাং লিউ এবং ট্যাং ইউ ট্যানকে।
চ্যাং লিউ অ্যাপলে আট বছর জ্যেষ্ঠ বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। আর ট্যাং ইউ ট্যান ২৪ বছর অ্যাপলে কর্মরত ছিলেন এবং আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের নকশা বিভাগের সহপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান হার্ডওয়্যার কর্মকর্তা।
অ্যাপলের দাবি, এসব সাবেক কর্মী সংবেদনশীল প্রকল্প, বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক, নিজস্ব উৎপাদন কৌশল এবং এখনো বাজারে না আসা পণ্যের তথ্য জানতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওপেনএআই অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পণ্য পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যাপলের বর্তমান কর্মীদের চাকরির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময়ও ওপেনএআই তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য জানার চেষ্টা করেছে।
অ্যাপলের দাবি, ওপেনএআইয়ের সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীরা সম্ভাব্য কর্মীদের সাক্ষাৎকারে “দেখানোর জন্য” অ্যাপলের “আসল যন্ত্রাংশ” সঙ্গে আনতে বলেছিলেন।
অ্যাপলের অভিযোগ, মামলায় অন্তর্ভুক্ত সব পক্ষ “সমন্বিতভাবে এবং একটি সংগঠিত উদ্যোগ হিসেবে” কাজ করেছে, যাতে অ্যাপলের গোপন তথ্য ব্যবহার করে ভোক্তাপণ্যভিত্তিক হার্ডওয়্যার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ওপেনএআই সুবিধা পায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই চলতি মাসেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সেবার সঙ্গে ব্যবহারের জন্য তাদের প্রথম হার্ডওয়্যার পণ্য, একটি বিশেষ ধরনের কিবোর্ড, উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কোম্পানিটির।
মামলায় অ্যাপলের দাবি, ওপেনএআইয়ে “নেতৃত্বের মধ্যেই অসদাচরণ স্বাভাবিক এক চর্চায় পরিণত হয়েছে।” কোম্পানিটির ভাষায়, তাদের “নতুন হার্ডওয়্যার ব্যবসার ভিত্তিই সবচেয়ে নড়বড়ে, কারণ সেটি অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা বাণিজ্যিক গোপন তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।”
অ্যাপল আরও বলেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা ওপেনএআইয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করেছিল। তবে কোম্পানিটি তাদের উদ্বেগের কোনো জবাব দেয়নি।
মামলায় আদালতের কাছে অ্যাপল আবেদন করেছে, অভিযোগে উল্লেখ করা গোপন তথ্য সংগ্রহ বা ব্যবহার থেকে ওপেনএআইকে অবিলম্বে বিরত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হোক। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও চেয়েছে কোম্পানিটি, যদিও এর পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়নি।