Published : 12 Jul 2026, 11:21 PM
সাড়ে ১৮ কোটি টাকা পাচার ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া ১১ জন হলেন- রাজতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগের দুই সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির, মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার জয়নাল আবেদীন, দুই রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার ও মো. মঞ্জুরুল হক, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক।
দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমির বলেন, “এই ১১ আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন পান। গত ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তারা। ওইদিন আদালত তাদের জামিন বর্ধিত করে ধার্য তারিখ পর্যন্ত বহাল রাখেন। এই অবস্থায় তারা আজ স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করে; আমরা এর বিরোধিতা করি। আদালত জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”
পাঁচ দেশে রপ্তানির নামে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা পাচার ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক আহসান উদ্দিন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দো অ্যাম্পেক্স লিমিটেডের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রফতানির ভুয়া তথ্য দেখিয়ে প্রায় ১৮ কোটি টাকা দেশে আনেন। একইসঙ্গে তারা ৩৪টি রফতানি চালানের মূল্যবাবদ প্রণোদনা হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেন। অথচ বাস্তবে কোনো রফতানি হয়নি।
২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দো অ্যাম্পেক্স লিমিটেডের মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে সরকারের প্রণোদনা গ্রহণ করে। এর মধ্যে ৭ বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কৃষি জাতীয় পণ্য রফতানির সত্যতা পাওয়া গেলেও ৩৪টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কোনো পণ্যই বিদেশে রফতানি হয়নি। অথচ পণ্য রফতানির বিপরীতে অগ্রীম হিসাবে পুরো অর্থ ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭.৪৪ মার্কিন ডলার অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে প্রত্যাবাসন দেখান হয়েছে; টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা।
রপ্তানি দেখিয়ে কোম্পানিটির মাধ্যমে ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছে আসামিরা।