Published : 22 Mar 2026, 10:49 AM
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাতীয় আইন কাঠামো প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। এর লক্ষ্য, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য যেন আলাদা করে নিজস্ব এআই আইন না করে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তুলনামূলক শিথিল নীতিই কার্যকর থাকে।
বিষয়টি নিয়ে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই কাঠামোর ভিত্তি তৈরি হয় গত ডিসেম্বরে ডনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা এক নির্বাহী আদেশ থেকে। ওই আদেশ অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব এআই নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ আটকে দিয়েছিল। নতুন কাঠামোতে ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে এআই জালিয়াতি পর্যন্ত বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হোয়াইট হাউস বলছে, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের এআই নেতৃত্ব ধরে রাখার চেষ্টায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মসংস্থান, শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে তথ্য খোঁজার পদ্ধতি পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব বাড়ছে। তবে প্রযুক্তিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে বলে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের জন্য ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। দ্রুত উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জনআস্থা ধরে রাখার ভারসাম্য তৈরিই এসব লক্ষ্যর উদ্দেশ্য। এতে ডেটা সেন্টার ব্যবস্থাপনা থেকে সরকারি সেন্সরশিপ পর্যন্ত নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এআই ব্যবহারে সামগ্রিক তদারকি খুবই সীমিত। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সম্পর্ক, স্বাস্থ্যসেবা এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও এআই ঢুকে পড়েছে। কেন্দ্রীয় আইন না থাকায় কিছু অঙ্গরাজ্য এরইমধ্যে বিভ্রান্তিকর ডিপফেইক বা নিয়োগে বৈষম্যের মতো ঝুঁকি ঠেকাতে নিজস্ব আইন করেছে।
হোয়াইট হাউসসহ এআই খাতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে মত দিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যভিত্তিক আলাদা আইন থাকলে উদ্ভাবনের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং চীনের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তায়ও পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগও আছে। দ্য অ্যালায়েন্স ফর সিকিওর এআই-এর প্রধান নির্বাহী ব্রেন্ডান স্টেইনহাউজার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোতে প্রযুক্তি থেকে হওয়া ক্ষতির জন্য “কোনো জবাবদিহিতার পথ নেই।”
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক-সমর্থিত পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন গ্রুপের নেতা ব্র্যাড কারসন বলেন, এই পরিকল্পনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খাতের মতোই নিয়ন্ত্রণের অভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি এক্স-এ লেখেন, “এটা স্যাকারিনের মতো, পুষ্টিহীন, শেষে তেতো স্বাদ রেখে যাবে এবং সম্ভবত ক্যান্সারবান্ধব।”
তবে শিথিল নিয়ন্ত্রণের পক্ষের অনেকে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। অ্যান্ড্রিসেন হোরোভিটজের সরকারি বিষয়ক প্রধান কলিন ম্যাককিউন একে “বড় পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা ও উদ্ভাবকদের জন্য পরিষ্কার নিয়ম নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় আইন দরকার।
হোয়াইট হাউস বলেছে, আগামী মাসগুলোতে কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করে এই কাঠামোকে আইনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন আইন পাস করা কঠিন হতে পারে।