Published : 05 Nov 2025, 10:43 AM
নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা রোধের লক্ষ্যে সরকারের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে গলা টিপে ধরা বা শ্বাসরোধের মতো দৃশ্য দেখানো অবৈধ ঘোষণা করবে যুক্তরাজ্য।
বর্তমানে মূলধারার বিভিন্ন পর্ন সাইটে শ্বাসরোধের মতো দৃশ্য অনেক বেশি দেখা যায়। ফলে তরুণদের মধ্যে এ ধরনের আচরণল ‘খুব স্বাভাবিক’ মনে হতে পারে, এমন পর্যালোচনার পরই যুক্তরাজ্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রক্রিয়াধীন ‘ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং’ বিলের সংশোধনী অনুসারে, এমন ধরনের কনটেন্ট অবৈধভাবে ধারণ, রাখা বা প্রকাশ করা উভয়ই ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে।
বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে নিজ থেকেই এমন কনটেন্ট শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলার দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যথায় এসব প্লাটফর্মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাজ্যের মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’।
যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিভাগ বলেছে, এ পরিবর্তনের ফলে পর্নোগ্রাফিতে শ্বাসরোধের দৃশ্য ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে, যা দেশটির ‘অনলাইন সেইফটি অ্যাক্টে’র আওতায় শিশু যৌন নির্যাতন বা সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত কনটেন্টের সমান গুরুত্ব পাবে।
প্রযুক্তি সচিব লিজ কেন্ডাল বলেছেন, “অনলাইনে এ ধরনের কনটেন্ট দেখা বা শেয়ার করা কেবল গভীরভাবে মানসিক চাপই তৈরি করে না, বরং বিষয়টি অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও বিপজ্জনক। যারা এ ধরনের কনটেন্ট পোস্ট বা প্রচার করেন তারা এমন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের সংস্কৃতিতে অবদান রাখছেন, যার আমাদের সমাজে কোনো স্থান নেই।
“বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকেও জবাবদিহিতার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি আমরা, সেখানে এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার আগেই বন্ধ করে দেবে তারা।”
এ বছরের শুরুতে কনজারভেটিভ পার্লামেন্টারি সদস্য বারোনেস বার্টিন সতর্ক করে বলেছিলেন, পর্নোগ্রাফি শিল্পের ওপর ‘সরকারের তদন্তের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত’।
ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত বার্টিনের পর্যালোচনায় ১৪ বছর বয়সী এক ছেলের ঘটনার উদ্ধৃতি রয়েছে, যেখানে একজন শিক্ষককে যৌনতার সময় মেয়েদের কীভাবে গলা টিপে ধরতে হয় তা প্রশ্ন করেছিল ছেলেটি। পাশাপাশি পর্যালোচনায় সতর্ক করেছে, এ ধরনের আচরণ অনুকরণ করলে যে কেউ ‘ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন’।
এ পর্যালোচনার পর জুনে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বিলটিতে এমন সংশোধনী আনা হবে, যা অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে শ্বাসরোধের দৃশ্য দেখানোকে অবৈধ ঘোষণা করবে সরকার।
‘সহিংসতার গুরুতর রূপ’
২০১৯ সালে বিবিসির এক জরিপে উঠে এসেছে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ নারীকে যৌন সম্পর্কের সময় গলা টিপে ধরেছে তাদের ‘সঙ্গী’।
সরকারের এ সংশোধনীকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ‘ইন্সটিটিউট ফর অ্যাড্রেসিং স্ট্রাংগুলেশন’-এর প্রধান নির্বাহী বার্নি রায়ান।
“গলা টিপে ধরা গুরুতর ধরনের সহিংসতা, যা বেশিরভাগ সময় পারিবারিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে কাউকে নিয়ন্ত্রণ, আতঙ্কিত বা ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।”
এ সংশোধনীকে অনলাইন কনটেন্টে সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ ঠেকানোর দিকে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ‘এন্ড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন কোয়ালিশন’-এর পরিচালক আন্ড্রিয়া সিমন।
“গলা টিপে ধরার বিষয়টি কখনও নিরাপদ হতে পারে না, নিরাপদ গলা টিপে ধরা বলে কিছু নেই। নারীরা এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির জন্য রাজি হতে পারে না, বিশেষ করে যেখানে মানসিক সক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তির কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
“পর্নোগ্রাফিতে এমন দৃশ্য অনেক বেশি দেখানো হচ্ছে, যা মানুষের এ বিপজ্জনক আচরণকে উসকে দিচ্ছে, বিশেষ করে তরুণদের বেলায়।”