Published : 13 Apr 2023, 03:19 PM
বিবিসি’র মূল টুইটার অ্যাকাউন্টের লেবেল পরিবর্তন করেছে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক মালিকানাধীন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম টুইটার। ব্রিটিশ এই সম্প্রচারক সংস্থা প্ল্যাটফর্মটিতে ‘সরকারি তহবিলের গণমাধ্যম’ তকমা নিতে আপত্তি জানানোর পর আগের লেবেল বদলে এখন ‘জনগণের অর্থায়নে পরিচালিত’ লেবেল যুক্ত হয়েছে এতে।
মঙ্গলবার বিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, তিনি এই পরিবর্তন আনবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আমরা সঠিক হওয়ার চেষ্টা করছি।”
এর আগে বিবিসি ইলন মাস্কের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রস্তাব দিলে মাস্ক টুইটের মাধ্যমে সাড়া দেন- “চলুন আজ রাতেই সেরে ফেলি।”
গেল রোববার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে টুইটারের দেওয়া মূল বর্ণনা নিয়ে আপত্তি জানায় বিবিসি। সংস্থাটি বলছে, “বিবিসি সবসময় স্বতন্ত্র ছিল ও এখনও আছে।”
“আমাদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করে ব্রিটিশ জনগণ, যা আসে লাইসেন্সিং ফি’র মাধ্যমে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিসকোতে বিবিসি’র উত্তর আমেরিকা অংশের প্রযুক্তি প্রতিবেদক জেমস ক্লেটনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাস্ক উল্লেখ করেন, “আমি জানি, বিবিসি এই রাষ্ট্র সমর্থিত গণমাধ্যমের তকমা নিয়ে রোমাঞ্চিত নয়।”
“আমরা যদি বিভিন্ন এমন শব্দ ব্যবহার করি যা বিবিসি নিজেকে বর্ণনার জন্য ব্যবহার করে থাকে, তাহলে হয়তো এটা ঠিক হবে… এটি যুক্তিসঙ্গত কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে বলেও মনে হচ্ছে।”
“আমার সত্যিই বিবিসি’কে অনেক শ্রদ্ধা করি।”
এর জবাবে বিবিসি বলেছে, তারা ‘এই ধরনের যে কোনো পদক্ষেপই স্বাগত জানাবে।’
বিবিসির ‘রয়্যাল চার্টার’ নামের নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে সংস্থাটিকে ‘অবশ্যই স্বতন্ত্র’ হতে হবে, বিশেষ করে সম্পাদকীয় ও সৃজনশীল সিদ্ধান্ত, সময় ও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এর আউটপুট ও পরিষেবার ধরনের মতো বিষয়গুলোর বেলায়।”
মার্কিন পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘এনপিআর’-এর বেলায় একই ‘সরকারি তহবিলের’ লেবেলটি ব্যবহার করেছে টুইটার। বুধবার সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, তারা এই সামাজিক প্ল্যাটফর্মে আর কোনো নতুন পোস্ট করবে না।
বিবিসি’র অর্থায়ন কীভাবে হয়?
২০২২ সালে ৪৭০ কোটি ডলারের লাইসেন্সিং ফি তুলেছে বিবিসি, যা বিবিসি’র সামগ্রিক আয়ের (৬৬২ কোটি ডলার) ৭১ শতাংশ। আর বাকি অর্থ এসেছে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, অনুদান, রয়্যালটি ও ভাড়াকৃত আয় থেকে।
পাশাপাশি, ‘বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস’ নামের পরিষেবা সমর্থনে দেশটির সরকার থেকে প্রতি বছর ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার সমতুল্য আর্থিক তহবিল পায় সংবাদমাধ্যমটি। মূলত যুক্তরাজ্যের বাইরের দর্শকদের সংবাদ পরিষেবা দিয়ে থাকে এটি।
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বিবিসি’র চেয়ারম্যান রিচার্ড শার্পের যোগসূত্র ও সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক স্যার রবি স্ট্রিট জায়গা পাওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বিবিসি’র ওপর সরকারের প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
সংস্থাটির মহাপরিচালক টিম ডেভি জোর দিয়ে বলেন, পর্ষদ সদস্যরা ‘কোনো সিদ্ধান্তের নীতিনির্ধারক নন’। তিনি আরও বলেন, “তারা কোনো সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেন না। সেটা আমরা করে থাকি।”