Published : 04 Apr 2026, 02:43 PM
মাদক পাচার মামলার তদন্তে বিতর্কিত ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি প্যারাগনের প্রযুক্তি কিনেছে মার্কিন সংস্থা আইসিই।
সম্প্রতি আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ গোপন নজরদারির কথা স্বীকার করেছেন সংস্থাটির প্রধান, যা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ প্রযুক্তি সংবাদের সাইট টেকক্রাঞ্চ।
ওই চিঠি অনুসারে, মার্কিন ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা আইসিই-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান টড লায়ন্স আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, মাদক পাচার মামলার তদন্তে তারা ‘প্যারাগন সলিউশনস’ কোম্পানির তৈরি স্পাইওয়্যার বা নজরদারি সফটওয়্যার কিনেছেন।
লায়ন্স তিনজন কংগ্রেস সদস্যের কাছে লেখা ওই চিঠিতে বলেছেন, তিনি সংস্থাটির অপরাধ তদন্ত ইউনিট ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ বা এইচএসআই’কে এ ‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম’ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।
চিঠিতে স্পাইওয়্যার ব্যবহারের বিষয়টি ইঙ্গিত করে লায়ন্স বলেছেন, “বিদেশী বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যেভাবে এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অপব্যবহার করছে তা ঠেকাতেই” এ পদক্ষেপ।
এর আগে ২০২৪ সালে প্রায় এক হাজার চারশ মোবাইল ডিভাইসে সাইবার হামলা চালানোর ঘটনায় মেটা মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপের আনা মামলায় সম্প্রতি পেগাসাস স্পাইওয়্যার নির্মাতা এনএসও গ্রুপ’কে দায়ী করে মার্কিন আদালত।
নজরদারী প্রযুক্তি তৈরি করা ইসরায়েলী কোম্পানি ‘এনএসও গ্রুপ টেকনোলজিস’-এর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের মে মাসে এ মামলা করেছিল হোয়াটসঅ্যাপ। এতে কুখ্যাত পেগাসাস সফটওয়্যার ব্যবহার দুই সপ্তাহের মধ্যে এক হাজার চারশ জনের ফোনে সাইবার হামলা চালায় ও ডিভাইসে নজরদারি করার অভিযোগ করে হোয়াটসঅ্যাপ।
এ কারণেই সমালোচক ও মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই এর বিরোধিতা করে আসছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায়ই একটি যুক্তিতে স্পাইওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যেখানে তারা দাবি করে, যেহেতু এনক্রিপ্ট করা তথ্য সহজে দেখতে পায় না তারা ফলে বড় ধরনের অপরাধের তদন্তে ফোন বা কম্পিউটারে আড়িপাতা সফটওয়্যার প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তারা সরাসরি ব্যক্তির ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এসব বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের সদস্যদের ফোনে আড়ি পেতেছে এমন উদাহরণের তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে।
চিঠিতে লায়ন্স দাবি করেছেন, আইসিই এ স্পাইওয়্যার ব্যবহারের সময় ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে’। এ বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে না এবং কোনো বিদেশি সরকার বা ব্যক্তি এ স্পাইওয়্যারের অপব্যবহার করার সুযোগ পাবে না।
আইসিই-এর পক্ষ থেকে আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এ চিঠির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে এসেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ।
২০২৪ সালে আইসিই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি ‘প্যারাগন সলিউশনস’-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে বাইডেন প্রশাসন দ্রুতই সেই চুক্তিটি স্থগিত করে দেয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আইসিই সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেয় ও চুক্তিটি পুনরায় কার্যকর করে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না যে, আইসিই আসলেও প্যারাগনের স্পাইওয়্যার ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল কি না।
এদিকে, এ স্পাইওয়্যার নির্মাতা কোম্পানিটি ইতালিতে এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে। গত বছর ইতালিতে সাংবাদিক ও অভিবাসনপন্থী কর্মীদের ফোনে প্যারাগনের তৈরি ‘গ্রাফাইট’ নামের স্পাইওয়্যার দিয়ে নজরদারি চালানোর তথ্য ফাঁস হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় প্যারাগন ইতালির বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার জন্য তাদের স্পাইওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক এ স্পাইওয়্যার ব্যবহারের বিষয়ে টেকক্রাঞ্চের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি প্যারাগন ও আইসিই।