Published : 24 Jun 2026, 01:21 PM
রে-ব্যানের মতো বড় ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার নিজস্ব ব্র্যান্ড নামেই সাশ্রয়ী মূল্যের নতুন স্মার্ট চশমা উন্মোচন করেছে মেটা।
মুখের পজিশনে ক্যামেরা থাকায় এ স্মার্ট চশমা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও অ্যাপের ভেতর গোপন নজরদারি কোড পাওয়ার জল্পনায় প্রাইভেসির প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
নতুন চশমাটি আগের মতোই চশমা নির্মাতা কোম্পানি ‘এসিলর লেক্সোটিকা’-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে তৈরি করেছে মেটা।
আগের স্মার্ট চশমাগুলোও মেটা এ কোম্পানিটির অধীনে থাকা রে-ব্যান ও ওকলি’র মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের চিরচেনা ডিজাইনে স্মার্ট ফিচার যোগ করে বাজারে এনেছিল মেটা।
তবে নতুন চশমাটি কোনো সাব-ব্র্যান্ডের অধীনে নয়, বরং সরাসরি মেটার নিজস্ব ব্র্যান্ড নামেই বিক্রি হচ্ছে, যার দাম কেবল ২৯৯ ডলার।
রে-ব্যানের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা আগের বিভিন্ন মডেলের তুলনায় নতুন চশমাটি প্রায় ৮০ ডলার সাশ্রয়ী। তবে এ চশমার ভেতরে আগের মতোই সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচার রয়েছে।
মেটার স্মার্ট চশমা যাত্রার শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। ওই সময় তারা প্রথম ‘রে-ব্যান স্টোরিজ’ নামের সানগ্লাসে ক্যামেরা ও স্পিকার যোগ করে বাজারে নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে এতে বড় ধরনের আপডেট আনা হয়, যার মাধ্যমে চশমাটির ক্যামেরা, স্পিকার ও অন্যান্য ফিচারের উন্নত করেছে মেটা।
চোখের সামনে বা মুখের পজিশনে ক্যামেরা মাউন্ট করা থাকায় এ চশমার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার ভিডিও ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।
চশমাটি নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি, বিশেষ করে মেটার ব্যক্তিগত প্রাইভেসি ভঙ্গের রেকর্ড মাথায় রেখে সমালোচকরা দাবি করছেন, এ ডিভাইসটি মানুষের ব্যক্তিগত প্রাইভেসিতে বড় ধরনের অনুপ্রবেশের শামিল।
মেটা স্মার্ট চশমার অ্যাপের ভেতর গোপন নজরদারি কোড খুঁজে পাওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
এ কোড দেখে ধারণা করা হচ্ছে, কোম্পানিটি অ্যাপের ভেতরে ফেইশল রিকগনিশন প্রযুক্তি যোগের কাজ করছে। তবে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, ফিচারটি বর্তমানে সচল নেই।
মেটার ইতিহাসে এবারই প্রথম তারা এমন কোনো স্মার্ট চশমা বাজারে আনল, যেখানে প্রচলিত কোনো চশমা নির্মাতা কোম্পানির ব্র্যান্ডিং বা লোগো ব্যবহার করা হয়নি।
নতুন এসব চশমা তিনটি স্টাইলে পাওয়া যাবে, যেখানে প্রচলিত ডিজাইনের ‘অ্যাডভেঞ্চারার’, একটু সাহসী ও নজরকাড়া ডিজাইনের ‘ফিউরি’ এবং কাইলি জেনারের সঙ্গে যৌথ কোলাবোরেশনে তৈরি বিশেষ এক সংস্করণ।
এ ছাড়া চশমাগুলোতে ফ্রেমের একগুচ্ছ বৈচিত্র্যময় অপশনও থাকছে।
‘এসিলর লেক্সোটিকা’ মেটার সঙ্গে মিলেই এসব চশমা ডিজাইন করেছে এবং চশমার ফ্রেমের ডাঁটির ভেতরের অংশে এ কোম্পানির নাম উল্লেখ রয়েছে। মেটা বলেছে, এ অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতেও থাকবে এবং তারা সামনেও একসঙ্গে কাজ করবে।
গুগল’সহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্যেই মেটা তাদের এ নতুন চশমা বাজারে আনল।
এদিকে, গুগল বর্তমানে নিজস্ব স্মার্ট চশমা প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে এবং অ্যাপলও প্রযুক্তিচালিত নিজস্ব স্মার্ট চশমা বা আইওয়্যার তৈরি করছে বলে বাজারে গুঞ্জন রয়েছে।