Published : 25 Oct 2025, 06:16 PM
দেশে তিন স্তরে জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল রূপান্তর চলছে বলে উল্লেখ করেছেন আইসিটি সচিব। দেশে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘সময়োপযোগী’ নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
শনিবার আয়োজিত দিনব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সম্মেলন ‘সাইবার সিকিউরিটি সিম্পোজিয়াম ২০২৫’-এর প্রধান অতিথি ছিলেন সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। দেশে নেটওয়ার্ক সার্ভার পরিচালন পেশাজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স ফোরাম’ (বিডিসাফ) ছিল এ সম্মেলন ও ‘নলেজ শেয়ারিং ইভেন্টের উদ্যোক্তা।
সচিব বলেন, “সরকার চাইছে ডিজিটাল অর্থনীতিতে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতি-কাঠামো তৈরি করতে।”
‘মানুষ, প্রযুক্তি ও বিশ্বাসে গড়ে উঠুক সাইবার স্থিতিশীলতা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে ছিল ১০টি কারিগরি সেশন ও একটি প্যানেল আলোচনা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বনাম প্রতারণা
প্যানেল আলোচনার বিষয় ছিল ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রতারণার দ্বন্দ্ব: তথ্য সুরক্ষার যুগে বাংলাদেশের সাইবার প্রতিরক্ষা পুনর্নির্মাণ’।
এতে অংশ নেন এশিয়া-প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী কাউন্সিল সদস্য ও ফাইবার-অ্যাট-হোমের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা শায়েরুল হক জোয়ার্দার নীল, রবি’র সহযোগী পরিচালক সঞ্জয় চক্রবর্তী এবং আইনজীবী নাবিল আহমেদ খান। আলোচনার সঞ্চালনা করেন ।
বিডিসাফ সাধারণ সম্পাদক মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম-এর সঞ্চালনায় এ আলোচনায় বক্তারা বলেন, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে, তেমনি ডিপফেইক, ভুয়া পরিচয় ও ডেটা ফাঁসের মতো নতুন সাইবার হুমকিও তৈরি করছে। তাদের মতে, বাংলাদেশের এখন সময় এসেছে সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন এবং তথ্য সুরক্ষা নীতিমালা আরও শক্তিশালী করার।

প্যানেল আলোচনায় তিনটি দিকের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে-
১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর হুমকি শনাক্তকরণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা
২. অংশীদারদের মতামতের ভিত্তিতে তথ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ও
৩. নৈতিক ও স্বচ্ছ প্রযুক্তি ব্যবহারের নিশ্চয়তা
বক্তাদের মত, বাংলাদেশ এরইমধ্যে আর্থিক খাত, টেলিকম ও সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে সাইবার প্রতিরক্ষা জোরদারের সুযোগ তৈরি করবে। তবে মানবিক দক্ষতা ও প্রযুক্তির ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কারিগরি সেশনে আধুনিক সাইবার প্রতিরক্ষা
দিনব্যাপী কারিগরি সেশনগুলোয় আলোচনায় ছিলেন গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, ব্রেইন স্টেশন ২৩, ইস্টার্ন ব্যাংক, বাংলাদেশ পুলিশসহ বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীরা।
ইস্টার্ন ব্যাংকের তথ্য নিরাপত্তা প্রধান আবুল কালাম আজাদ আলোচনা করেন বিভিন্ন টুলের সমন্বয়ের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক ও সিস্টেম সুরক্ষা নিয়ে। গ্রামীণফোনের রাসকিন পাল তুলে ধরেন র্যানসমওয়্যার আক্রমণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশল বিষয়ে। আর, ব্রেইন স্টেশন ২৩–এর মিজানুর রহমান ব্যাখ্যা করেন সফটওয়্যার নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহার।
বাংলাদেশ পুলিশের এসপি খালেদা বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটতে থাকা নানা ধরনের অপরাধ, তার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও আইনগত প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ব্রেইন স্টেশন ২৩ এবং লিডিং এজ টেকনোলজির সহায়তায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিডিসাফ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান।