Published : 06 Jun 2026, 06:45 PM
বৃষ্টি বাধায় রিজার্ভ ডেতে গড়ানো ম্যাচগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে শনিবার। পাঁচ ম্যাচের তিনটির দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হয়েছিল শুক্রবারই । বাকি দুই ম্যাচের প্রথম ইনিংসের বাকি থাকা অংশ এবং দ্বিতীয় ইনিংস শনিবার হয়েছে। আগের দিনের তিন সেঞ্চুরির পর এ দিন হয়েছে আরেকটি শতক। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের সাব্বির হোসেন শিকদার।
ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ১০৪ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। ৮ উইকেটে ২৮৭ রানে থামে গাজী গ্রুপের ইনিংস। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিকে ৪৭ রানের জয় পায় মোহামেডান। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী হারায় লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে। পাশাপাশি আরেক শিরোপা প্রত্যাশী দল প্রাইম ব্যাংকও পেয়েছে তাদের কাঙ্ক্ষিত জয়।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আবাহনীর লক্ষ্য ছিল ২০ ওভারে ১৬৩ রান। ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে রিজার্ভ ডে শুরু করা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ৭ বল আগেই ৩ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।
দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ রান করেন জাকের আলি। এই ইনিংসের পথে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১২ বলে ২০ রান ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন চার ছক্কায় করেন ১২ বলে ২৬। লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে মেহেদি হাসান ৩০ রানে নেন তিন উইকেট।
পিকেএসপিতে তাওহিদ হৃদয়ের ১০১ ও মুশফিকুর রহিমের ১০০ রানে গাজী গ্রুপের বিপক্ষে মোহামেডান তুলেছিল ৪ উইকেটে ৩৩৩ রান। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে গাজী গ্রুপের সামনে ৪২ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৩৫ রান। এই লক্ষ্য বলা যায় ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল তাদের। তার পরও সাব্বিরের শতরানে পরাজয়ের ব্যবধান খুব বড় হয়নি।
২ উইকেটে ৪১ রান নিয়ে দিন শুরু করা গাজী গ্রুপ অলআউট হয় ৮ উইকেটে ২৮৭ রানে। ছয়ে নেমে ৯৫ বলে ১১১ রান করেন সাব্বির, ওপেনার শোভন মোড়ল ৩৪ বলে করেন ৫৬ রান।
মোহামেডানের তাইজুল ইসলাম ৪ উইকেট উইকেট করেন ৩৬ রানে। এক ম্যাচ আগেই ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দিয়েছিল সিটি ক্লাব। গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের ছুঁড়ে দেওয়া ২০৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আগের দিন তারা ৪২ রানে ৭ রানে হারিয়েছিল ৭ উইকেট। মনে হয়েছিল, ম্যাচে কেবল আনুষ্ঠানিকতাই বাকি।
কিন্তু রিজার্ভ ডেতে ষ্টম উইকেটে মোহাম্মদ এনামুলকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুল গাফফার সাকলাইন গড়েন ৪৮ রানের জুটি। আগের দিন ৫ উইকেট শিকার সাকলাই এবার ব্যাট হাতে করেন চার ছক্কায় ২৫ বলে ৩৬।
নবম উইকেটে এনামুল ও নিহাদউজ্জামান যোগ করেন ৫২ রান। ৫ ছক্কায় ৫৬ রান করে আউট হন এনাম। কিন্তু সিটির লড়াই শেষ হয়নি সেখানেও। নিহাদউজ্জামান ও এনামুল হক আশিক শেষ উইকেটেও দারুণ ব্যাটিংয়ে কাঁপিয়ে দেন গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য অভাবনীয় জয় আদায় করতে পারেনি দলটি। চার ছক্বায় ২৮ বলে ৩৪ রান করে আউট হন শেষ ব্যাটসম্যান আশিক। ১৮৬ রানে আটকে যায় সিটি ক্লাব। গুলশান ম্যাচ জিতে নেয় ১৭ রানে।
ক্রিকেটার্স একাডেমিতে শিরোপা প্রত্যাশী প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে লড়াই জমাতে পারেনি রূপগঞ্জ টাইগার্স। শুক্রবার ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংক শনিবার অলআউট হয় ১৬৫ রানে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে শাহাদাত হোসেনের ব্যাটে।
এছাড়া ৫৬ বলে ৪১ রান করেন খালিদ হাসান। শেষদিকে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৭ বলে করেন ২৭ রান। রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন মেরাজ মাহবুব নিলয়।
১৬৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শফিউল হায়াত হৃদয়ের ৪২ ছাড়া বলার মতো স্কোর করতে পারেনি কেউ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান আসে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ব্যাটে। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে আলিস আল ইসলাম ও মেহেদি হাসান দুইটি করে উইকেট শিকার করেন।
ইউল্যাব মাঠে ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে ৪৫ ওভারের ম্যাচে ৯ উইকেটে ২৫১ রান তোলে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। শতরানের আশা জাগিয়েও ৫ রান দূরে থমকে যান সাইফ হাসান। ১১২ বলের ইনিংসে ৬টি ছক্কা মারেন তিনি।
এবারের লিগ শুরু করেছিলেন তিনি ৯৬ রানের ইনিংসে। এরপর ফিফটিবিহীন সাত ইনিংস পর এবার করলেন ৯৫।
অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রান, ৩০ বলে ৩৭ রান করেন আল আমিন। ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন লেপার্ডসের ইফতেখার হোসেন ইফতি।
ইফতি পরে ব্যাট হাতে খেলেন ৭০ রানের ইনিংস। ৮৮ রানে ৫ উইকেট হারানো দলের হয়ে সাতে নেমে ৪৬ বলে ৫৭ রান করেন মইন খান। তবে তা যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য।
বসুন্ধরার হয়ে দুই স্পিনার নাহিদুল ইসলাম ও সানজামুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।