Published : 15 Feb 2026, 04:57 PM
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের জন্য পরিচালিত গোপন অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী অ্যানথ্রপিকের তৈরি জনপ্রিয় এআই মডেল ব্যবহার করেছে বলে উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে।
শনিবার এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন বাণিজ্য দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে। বলা হচ্ছে, এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক কার্যক্রমে এআই ব্যবহারের হাই-প্রোফাইল এক উদাহরণ।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, দেশটিতে মার্কিন এ অভিযানের সময় রাজধানী কারাকাস জুড়ে বোমাবর্ষণ হয় এবং এতে ৮৩ জন নিহত হন।
তবে অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ক্লড ব্যবহারের শর্তাবলীতে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো সহিংস কাজে, অস্ত্র তৈরিতে বা নজরদারিতে ক্লড ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, অ্যানথ্রপিক হচ্ছে প্রথম কোনো এআই ডেভেলপার কোম্পানি যাদের তৈরি প্রযুক্তি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের গোপন অভিযানে ব্যবহৃত হওয়ার খবর সামনে এল।
পিডিএফ ফাইল প্রসেসিং থেকে শুরু করে চালকবিহীন ড্রোন পরিচালনা পর্যন্ত সক্ষমতা থাকা এ টুলটি ঠিক কীভাবে এ অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এ অভিযানে ক্লড ব্যবহার হয়েছে কি না সে বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনরোধে সাড়া দেননি অ্যানথ্রপিকের একজন মুখপাত্র।
তবে ওই মুখপাত্র বলেছেন, এআই টুলটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের নীতিমালা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।
বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদনে লিখেছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও দেশটির কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘পালান্টিয়ার টেকনোলজিস’-এর সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের পার্টনারশিপের মাধ্যমে ক্লড’কে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এ দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পালান্টিয়ার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোর সামরিক বাহিনী তাদের অস্ত্রাগারের অংশ হিসেবে এআইয়ের ব্যবহার ক্রমেই বাড়াচ্ছে। যেমন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় স্বয়ংক্রিয় সক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের জন্য এআই ব্যবহার করেছে।
পাশাপাশি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক ও সিরিয়ায় প্লেন হামলার লক্ষ্যবস্তু ঠিক করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীও।
এদিকে, অস্ত্র প্রযুক্তিতে এআই ব্যবহার ও অটোনমাস অস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন সমালোচকরা। তারা কম্পিউটার বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ভুলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে যন্ত্রই সিদ্ধান্ত নেয় কাকে মারা হবে আর কাকে নয়।
প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের প্রযুক্তি কতটা যুক্ত হওয়া উচিত তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে বিভিন্ন এআই কোম্পানিও।
এআই ব্যবহারের ফলে তৈরি ক্ষতি রোধে কঠোর নীতিমালার আহ্বান জানিয়েছেন খোদ অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী অটোনমাস সামরিক অভিযান ও নজরদারিতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
অ্যানথ্রপিকের এ সতর্ক অবস্থান মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ করেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিরক্ষা বিভাগ “এমন কোনো এআই মডেল ব্যবহার করবে না, যা যুদ্ধ করতে বাধা দেবে”।
এরই ধারাবাহিকতায় জানুয়ারিতে পেন্টাগন ঘোষণা করেছে, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এআই স্টার্টআপ এক্সএআইয়ের সঙ্গে কাজ করবে তারা।
বর্তমানে গবেষণা কাজে সহায়তার জন্য মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের জেমিনাই এবং চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ।