Published : 20 Jun 2025, 05:56 PM
অনলাইনে কেনাকাটা, ব্যাংকিং লেনদেন, সোশাল মিডিয়া থেকে শুরু করে নিত্যদিনে বিভিন্ন কাজের সঙ্গী হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। এসব কাজে আমাদের ফোন অনেক ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করে যার মধ্যে রয়েছে পরিচিতি, অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য।
অনলাইনে অসতর্ক ব্যবহারের ফলে ডিভাইস ভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়ে। ভাইরাস এক ধরনের ম্যালওয়্যার যা পুরো সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো ফোনের কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং যে কারও সংবেদনশীল তথ্য তুলে দিতে পারে হ্যাকারদের হাতে।
সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সাইট ম্যাকাফি এক প্রতিবেদনে ভাইরাসের এসব ধরনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে এবং কীভাবে সেগুলো শনাক্ত ও নির্মূল করা যেতে পারে তার উপায়ও জানিয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস
সাইবার অপরাধীরা স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের সাইবার আক্রমণ চালাতে পারে। এর মাধ্যমে ফোনে সংক্রমিত হতে পারে এমন কিছু ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে:
ম্যালওয়্যার: এটি তথ্য চুরি করে বা ব্যক্তির অনুমতি ছাড়াই ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
অ্যাডওয়্যার: এটি বিজ্ঞাপন আকারে আসে যা ডিভাইসের তথ্যে অ্যাক্সেস নিতে পারে যদি তাতে কেও ক্লিক করেন।
র্যানসমওয়্যার: হ্যাকারকে মুক্তিপণ না দেওয়া পর্যন্ত এই ভাইরাস কোনো ব্যক্তির নিজের ফোনই তাকে চালাতে দেবে না। উল্টো হ্যাকার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ছবি ব্ল্যাকমেইল করার জন্য ব্যবহার করতে পারবে।
স্পাইওয়্যার: এটি ব্রাউজিং এক্টিভিটি ট্র্যাক করে, তারপর ডেটা চুরি করে অথবা ফোনের কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
ট্রোজান: এই ধরনের ভাইরাস ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের ভিতরে লুকিয়ে থাকে এবং ডেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
যেভাবে সহজেই ফোনগুলো সংক্রমিত হয়
ফোন বা কম্পিউটারে ভাইরাস সংক্রমণ আপনার ব্রাউজিং এবং ডাউনলোড করার অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। তবে সচরাচর যেভাবে হয়ে থাকে তা হলো:
● অননুমোদিত, এমনকি পরিচিত জায়গা থেকে আসা বিভিন্ন লিংকে ক্লিক করা।
● এমন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা যা কোনো অনিরাপদ ওয়েবসাইটে নিয়ে যায় বা ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করে।
● সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা।
● অ্যাপল অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে স্টোরের বাইরে যাচাই না করা অন্য জায়গা থেকে ক্ষতিকারক অ্যাপ ডাউনলোড করা।
● পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের মতো অনিরাপদ ইন্টারনেটে সংযোগ করা।
যেভাবে বুঝবেন ফোনে ভাইরাস রয়েছে
যেভাবে ফোনে ভাইরাস ডিটেক্ট করবেন
ফোনে ভাইরাস আছে বলে মনে হতে পারে, তবে নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় হল তা পরীক্ষা করা। এটি করার একটি সহজ উপায় হল একটি বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ডাউনলোড করা যা সন্দেহজনক অ্যাপগুলোকে ফোনে প্রবেশ করতে বাধা দেবে।
ফোন থেকে ভাইরাস যেভাবে রিমুভ করবেন
ফোনে ভাইরাস আছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার পর কিছু ধাপ অনুসরণ করে এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন:
● ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার শনাক্ত করতে সাহায্য করার জন্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার অথবা একটি মোবাইল সিকিউরিটি অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
● ফোনের অ্যাপ লাইব্রেরিটি ভালো করে দেখে নিন যে, কোন অ্যাপ আপনার নিজের ডাউনলোড করা আর কোনগুলো নয়। এরপর অপরিচিত অ্যাপগুলো মুছে ফেলুন।
● তথ্য সুরক্ষিত রাখতে, মোবাইল ব্রাউজার থেকে নিয়মিতভাবে যে কোনো সংবেদনশীল টেক্সট মেসেজ মুছে ফেলুন এবং হিস্ট্রি ডিলিট করুন।
● কিছু ক্ষেত্রে, স্মার্টফোনটিকে তার ফ্যাক্টরি সেটিংয়ে রিবুট করার প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে ডেটা নষ্ট হতে পারে, তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্লাউডে ব্যাকআপ করতে ভুলবেন না।
● ফোন ক্লিন করার পর সব অ্যাকাউন্টের জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন এবং একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করে সেগুলোকে সুরক্ষিত করুন।
ভাইরাস আক্রমণ ঠেকাতে কী করবেন
শুধুমাত্র বিশ্বস্ত উৎস থেকে, অর্থাৎ অ্যাপ স্টোর বা অন্যান্য যাচাইকৃত স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। ইনস্টল করার আগে, অ্যাপের রিভিউগুলি পড়ুন তাহলে বুঝতে পারবেন যে অ্যাপটি কীভাবে ফোনের ডেটা ব্যবহার করতে চায়।
একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার না করে অ্যাকাউন্টের জন্য শক্তিশালী, ইউনিক পাসওয়ার্ড সেট আপ করুন। এতে কোনও একটি অ্যাকাউন্টের ক্ষতি হলেও বাকীগুলো ক্ষতি হওয়া থেকে বেঁচে যায়।
কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে দুবার ভাবুন। যদি সন্দেহজনক মনে হয়, তাহলে মনের ওপর বিশ্বাস রাখুন! এর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে আরও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এটিতে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন।
ব্রাউজারে লগইন তথ্য সংরক্ষণ করা এড়িয়ে চলুন এবং যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্রাউজার ব্যবহার করছেন না তখন লগ আউট করুন। এতে আক্রমণের সময় যে অ্যাকাউন্টগুলিতে লগ ইন করেননি সেগুলিতে ম্যালওয়্যারের অ্যাক্সেস পাওয়া আরও কঠিন হবে।
অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করুন।
কোনো অ্যাপকে সব অনুমতি দেবেন না। বরং, কেবল প্রয়োজন হলেই নির্দিষ্ট কিছু ডেটাতে অ্যাক্সেস দিতে পারেন।
পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের মতো অনিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। যদি খুব প্রয়োজন হয় তাহলে একটি নিরাপদ ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন যা ডেটা এনক্রিপ্ট করে।