১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে ভুয়া ভিডিও চিনবেন যেভাবে

এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব কম সময়ে বাস্তবের মতো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সত্যি আর ভুয়া আলাদা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে ভুয়া ভিডিও চিনবেন যেভাবে
এ যুদ্ধ সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করতে অসংখ্য এআই জেনারেটেড ভিডিও ও জাল স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহৃত হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Mar 2026, 04:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:10 PM

ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ধ্বংসস্তূপের নানা ভিডিও। কিন্তু সব ভিডিওই সত্যি নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও এবং পুরোনো ফুটেজকে নতুন ঘটনার দাবি দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে যুদ্ধসংক্রান্ত ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব কম সময়ে বাস্তবের মতো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সত্যি আর ভুয়া আলাদা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়।

প্রযুক্তি সাময়িকী ওয়্যার্ড এj প্রতিবেদনে কয়েকটি উপায় বলে দিয়েছে কীভাবে যুদ্ধের ভুয়া খবর শনাক্ত করবেন।

১. উৎস যাচাই করুন

ভিডিওটি কোন সূত্র থেকে এসেছে তা প্রথমেই দেখুন। অজানা বা ভেরিফায়েড না হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আসা ভিডিও সাধারণত সন্দেহজনক। বড় সংঘাতের খবর সাধারণত সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

২. রিভার্স সার্চ ব্যবহার করুন

ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম বা ছবি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করুন। এতে জানা যাবে, ভিডিওটি আগে কোথাও প্রকাশিত হয়েছিল কি না। অনেক সময় পুরোনো ভিডিও নতুন করে নতুন নামে ভাইরাল হয়।

৩. শব্দ ও দৃশ্যের মিল যাচাই

বাস্তব বিস্ফোরণ বা হামলার ভিডিওতে আশপাশের শব্দ থাকে। যদি শব্দ এবং দৃশ্যের মধ্যে মিল না থাকে, ভিডিওটি ভুয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪. অস্বাভাবিক বা বিকৃত দৃশ্য খুঁজুন

এআই ভিডিওতে অনেক সময় অস্বাভাবিক ধোঁয়া, বিকৃত ভবন বা মানুষের অদ্ভুত আচরণ দেখা যায়। এগুলো ডিপফেইক বা সিন্থেটিক ভিডিওর সাধারণ লক্ষণ।

৫. বড় সংবাদমাধ্যমে মিল আছে কি না দেখুন

বড় ধরনের হামলা বা ধ্বংসের ঘটনা ঘটলে তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ পায়। কোনো ভিডিও যদি কেবল সোশাল মিডিয়ায় দেখা যায়, তবে সেটি যাচাই করা জরুরি।

ফ্যাক্ট-চেক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমের যুগে যুদ্ধ শুধু ময়দানে নয়, তথ্যের ক্ষেত্রেও লড়াই চলছে। তাই যুদ্ধ বা সংকট সম্পর্কিত ভিডিও দেখলে তা যাচাই না করে শেয়ার না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

যাচাই করা ভিডিও ও তথ্য ব্যবহার করলে ভুল তথ্যের প্রভাব কমানো সম্ভব এবং সামাজিক বিভ্রান্তি রোধ করা যায়।

এ ধরনের সতর্কতা না নিলে ছোট ভিডিওও দ্রুত ভাইরাল হয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।

আরও পড়ুন…

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে ইন্টারনেটে ভুয়া এআই ভিডিওর বন্যা