Published : 04 Feb 2026, 06:08 PM
অস্ট্রেলিয়ায় চার লাখ ১৫ হাজারেও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে স্ন্যাপচ্যাট। দেশটিতে ১৬-এর কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার আইন মেনে চলতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কোম্পানিটি।
সোমবার এক ব্লগ পোস্টে স্ন্যাপচ্যাট বলেছে, জানুয়ারির শেষ নাগাদ অস্ট্রেলিয়ায় ৪ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে তারা। এসব ব্যবহারকারীদের বয়স ১৬-এর কম বা নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মটি তাদের বয়স ১৬-এর কম বলে শনাক্ত করেছে।
“প্রতিদিন আরও বেশি সংখ্যক অ্যাকাউন্ট বন্ধের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।”
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, গেল বছরের ডিসেম্বরে ১০টি প্ল্যাটফর্মের ওপর ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়া, যার মধ্যে অন্যতম স্ন্যাপচ্যাট।
এ বছরের জানুয়ারিতে নিষেধাজ্ঞার সাফল্য উদযাপন করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম কয়েক দিনেই এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে।
তবে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর থেকে বেশ কিছু অভিযোগও সামনে এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ন্যাপচ্যাটের মুখমণ্ডল দেখে বয়স শনাক্তের প্রযুক্তিটি খুব সহজেই ফাঁকি দিচ্ছে টিনএজাররা।
স্ন্যাপচ্যাট বলেছে, প্রতিদিন আরও অ্যাকাউন্ট বন্ধের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে একইসঙ্গে প্লাটফর্মটি সতর্ক করে বলেছে, এ আইন বাস্তবায়নে এখনও ‘বড় ধরনের কিছু ফাঁকফোকর’ রয়ে গেছে, যা সার্বিক উদ্যোগটিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
“সঠিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”
গেল বছরের এক ট্রায়ালের কথা উল্লেখ করে স্ন্যাপচ্যাট বলেছে, মুখমণ্ডল দেখে বয়স শনাক্তের প্রযুক্তিটি একজন মানুষের প্রকৃত বয়সের চেয়ে ২ থেকে ৩ বছরের ব্যবধানে ফলাফল দেয়, যা পুরোপুরি নিখুঁত নয়।
“বাস্তবে এর মানে, ১৬ বছরের কম বয়সীরা এ সুরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে। ফলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে, যাদের বয়স ১৬ বছরের বেশি ভুলবশত তাদের অ্যাকাউন্টও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
স্ন্যাপচ্যাট আরও বলেছে, এমন অনেক অ্যাপ আছে যেগুলোতে ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে সেগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েনি। ফলে টিনএজারা বিকল্প ও কম নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের দিকে ঝুঁকে পড়বে।
“এ পরিবর্তনের বিষয়টি এখনই তথ্যের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব না হলেও এমন ঝুঁকি নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত, বিশেষ করে যখন তারা বিচার করবেন, আইনটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে কি না।”
সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার ১০টি প্ল্যাটফর্মের নাম নির্দিষ্ট করে দিলেও ধারণা করা হচ্ছে, অস্ট্রেলীয় ব্যবহারকারী রয়েছেন এমন সব প্ল্যাটফর্মই নিজ থেকে যাচাই করে দেখবে তারা।
তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে ই-সেইফটি কমিশনারের মূল নজরদারি ছিল প্রাথমিকভাবে তালিকায় থাকা ওই ১০টি প্ল্যাটফর্মের ওপরই।
গত মাসে ই-সেইফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেছেন, “আমাদের দলটি ছোট। ফলে বাধ্য হয়েই আমাদের নজর দিতে হবে সেসব জায়গাতে, যেখানে তরুণদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেমন যেসব প্লাটফর্মে আড়াই লাখের বেশি ব্যবহারকারী আছে। আমরা অন্যান্য ছোট কোম্পানিগুলোকেও নজরে রাখছি যাদের প্রায় এক লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে। এ কাজ চলতেই থাকবে। আমরা কোনোভাবেই কাজ শেষ করে ফেলিনি।”
এদিকে, মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা’র মতো স্ন্যাপচ্যাটও দাবি জানিয়েছে, যেন বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি সরাসরি অ্যাপ স্টোর, যেমন গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর পর্যায়ে করা হয়।